ভারতীয় ক্রিকেট দল তথা দিল্লি ক্যাপিটালসের উইকেটকিপার-ব্যাটার অভিষেক পোড়েলকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করল পুলিশ। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত মোবাইলে গোপন ক্যামেরায় রেকর্ড করার মতো একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে এই উদীয়মান ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার হুগলির মগরা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রের খবর, এক মেডিক্যাল ছাত্রী মগরা থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, বিয়ের আশ্বাস দেওয়ায় তিনি অভিষেকের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবার শারীরিক সম্পর্কের সময় অভিষেক লুকিয়ে তাঁর মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করতেন। পরে তরুণী জানতে পারেন, কেবল তিনি একা নন—একাধিক মহিলার সঙ্গে একইভাবে প্রতারণা করেছেন এই ক্রিকেটার।
অভিযোগপত্রে ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল দিল্লির একটি ঘটনার কথা বিশেষভাব উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগকারিণীকে একটি ঘরে বেআইনিভাবে আটকে রেখে খাবার দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ফলে তিনি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন যে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বাধ্য হন এবং পূর্বনির্ধারিত বিমান ধরতে পারেননি।

আদালতের কড়া পদক্ষেপ ও গ্রেফতারি
ঘটনায় পুলিশি তদন্তে অসঙ্গতি দেখা দিলে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। হাইকোর্ট ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েলকে গ্রেফতারের স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে, অভিযোগকারিণীর কোনও আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তার জন্য অভিষেকের ব্যবহৃত সমস্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি) তৎক্ষণাৎ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মগরা থানার পুলিশকে।
আইপিসির মোট ১৯টি ধারায় এফআইআর (FIR) রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছ পুলিশ। ঘটনার পেছনে অন্য কোনও কারণ বা চক্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ক্রিকেটারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।








