ছাত্রশক্তির কাছে নতিস্বীকার দিল্লি-জমিদারদের: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: দিল্লির মসনদে বসে থাকা শাসকদলের তথাকথিত ‘জমিদার’দের ছাত্রশক্তির কাছে মাথা নত করতে হয়েছে। বুধবার এমনটাই দাবি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দেশজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফাকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। এই আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিন এক দলীয় কর্মসূচিতে অভিষেক তীব্র আক্রমণ শানান কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, দেশের যুব সমাজ যখন রুখে দাঁড়ায়, তখন দিল্লির দেওয়াল কেঁপে ওঠে। ছাত্ররাই প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ক্ষমতার দম্ভ চিরস্থায়ী নয়। নিট পরীক্ষায় বেনিয়মের প্রতিবাদে যেভাবে অগণিত পরীক্ষার্থী রাজপথে নেমেছিলেন, তা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। এই আন্দোলনের চাপেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে, যা প্রকারান্তরে দিল্লির জমিদারদের পরাজয়।

তৃণমূল সাংসদ আরও বলেন, বিজেপি সরকার সবসময় জনবিরোধী নীতি প্রণয়ন করে। তারা দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার চেয়ে নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতেই বেশি আগ্রহী। কিন্তু ছাত্ররা সেই অহংকারে আঘাত করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ছাত্ররাই এই দেশের আসল নির্ণায়ক শক্তি এবং আগামী দিনেও তারাই দিল্লির মসনদকে কাঁপানোর ক্ষমতা রাখে।

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগীদের বিরুদ্ধেও তীব্র বিষোদ্গার করেন। তিনি বলেন, যারা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন, তারা আসলে মানুষের আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আজ সেই দলত্যাগীরাই নিজের কেন্দ্রে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার ফল তারা হাতে-নাতে পাচ্ছেন। নাম না করেই তিনি দাবি করেন, মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই আস্থা রাখেন এবং এই আনুগত্য অটুট রয়েছে।

রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্প এবং কেন্দ্রের প্রকল্পের মধ্যে ফারাক বোঝাতে গিয়ে অভিষেক এদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সময়ে এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন, তা আজ গোটা দেশের কাছে মডেল। অন্যদিকে, বিজেপির ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ কেবল প্রচারের আলোয় থাকার কৌশল মাত্র। সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি অর্থনৈতিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ যে নজির সৃষ্টি করেছে, কেন্দ্রের কোনো প্রকল্পের সঙ্গেই তার তুলনা চলে না।

অভিষেক আরও বলেন, আমরা বাংলার মা-বোনেদের পাশে দাঁড়িয়েছি, তাদের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেছি। আর দিল্লির সরকার কেবল প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুলিয়ে রাখার রাজনীতি করে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের এই মানবিক মুখ চেনেন। সেই কারণে বিরোধীরা হাজার চেষ্টা করেও এই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

উল্লেখ্য যে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে সুবেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এবং রাজ্যের শাসনভার বিজেপির হাতে। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস নিয়মিত রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যু এবং জনস্বার্থের দাবিতে সোচ্চার। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া একাধিক প্রকল্পের জনপ্রিয়তা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপির কাছে। সেই নিরিখেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আসন্ন দিনগুলিতে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং নিট পরীক্ষার মতো বিষয়গুলি নিয়ে তৃণমূল যে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবে, অভিষেকের বক্তব্য থেকে তার ইঙ্গিত স্পষ্ট। রাজ্যের বিরোধী আসনে বসেও তৃণমূলের জনভিত্তি যে অটুট, তা বোঝাতেই এই জনসংযোগের কর্মসূচি বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ছাত্র আন্দোলন এবং রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে।