ভারতের আর্থিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী অর্থবর্ষ থেকেই দেশে প্রচলন হতে চলেছে পলিমার কারেন্সি নোট। কাগজের নোটের তুলনায় এই নতুন ধরনের নোট অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই হবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘকাল ব্যবহারের ফলে কাগজের নোটে যে ধরনের ক্ষয় বা ছিঁড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, পলিমার নোটের ক্ষেত্রে তা অনেকটাই কম হবে। এই নতুন পরিবর্তনের খবর সামনে আসতেই দেশজুড়ে মুদ্রা সংগ্রাহক তথা নিউমিসম্যাটিস্টদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের এই পদক্ষেপকে আধুনিক মুদ্রাব্যবস্থার দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ উত্তরণ হিসেবেই দেখছেন তারা।
উল্লেখ্য যে, অস্ট্রেলিয়া ১৯৮৮ সালে প্রথম বিশ্বের দরবারে পলিমার নোটের ধারণাটি পেশ করেছিল। সেই সময় থেকেই বিশ্বজুড়ে ধীরে ধীরে কাগজের নোটের পরিবর্তে পলিমার ভিত্তিক মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করছে। এবার সেই সারিতেই নাম লেখাতে চলেছে ভারত। দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি এই নোটগুলো অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত এবং জাল করা কঠিন বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। বর্তমান ডিজিটাল লেনদেনের যুগেও কাগজের নোটের বিকল্প হিসেবে পলিমারের এই ব্যবহার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে পরিগণিত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে কলকাতার বিশিষ্ট নোট সংগ্রাহকরা তাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহের ভাণ্ডার থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পলিমার নোট প্রদর্শন করতে শুরু করেছেন। সংগ্রাহকদের দাবি, বিদেশের মতো ভারতেও যদি পলিমার নোটের জনপ্রিয়তা বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় স্থায়িত্ব আসবে। কলকাতার সংগ্রাহকদের সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন দেশের পলিমার নোটগুলো ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। বহু মানুষই জানতে চাইছেন ভারতের নতুন নোটগুলো ঠিক কেমন হবে এবং সেগুলোর সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য কী থাকবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য রাখলে দেখা যায়, রাজ্যের শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাও সাধারণ মানুষের এই আগ্রহকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও, বিভিন্ন মহলে এই ধরনের আর্থিক সংস্কারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অতীতে রাজ্যের আর্থিক পরিকাঠামো নিয়ে সরব ছিলেন। তবে মুদ্রার এই পরিবর্তনটি মূলত রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয় হওয়ায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও এক ধরনের ঐকমত্য রয়েছে।
সংগ্রাহকদের মতে, ভারতের এই পলিমার নোটের যাত্রাপথ ভবিষ্যতের নিউমিসম্যাটিক্স বা মুদ্রাবিদ্যার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। সংগ্রাহকরা এই মুহূর্তটিকে উদযাপনের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। কলকাতার নিউমিসম্যাটিক্স সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত সদস্যরা বলছেন যে, ভারতে পলিমার নোট আসার খবরটি পুরনো হলেও এবার তা বাস্তবায়নের পথে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় সংগ্রাহক মহলে খুশির হাওয়া। নতুন নোট বাজারে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মুদ্রা বিশেষজ্ঞরা।
তবে এই পলিমার নোটের উৎপাদন খরচ বা বিতরণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আপাতত আমাদের কাছে উপলব্ধ নয়। আগামী দিনে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত নিয়মাবলী প্রকাশিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুদ্রা সংগ্রাহকদের আশা, নতুন নোটের নকশা হবে আকর্ষণীয় এবং তাতে ভারতের সংস্কৃতির ছাপ থাকবে। সব মিলিয়ে এক নতুন মুদ্রানীতির অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে সারা দেশ।








