মহালয়ার অনুষ্ঠানে নজিরবিহীন নিরাপত্তা, ইডেন-রেড রোডে কড়া নজরদারি

কলকাতার দুর্গাপুজোর প্রাকলগ্নে মহালয়ার ভোরে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এবার নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকছে তুঙ্গে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান এবং ভিড়ের কথা মাথায় রেখে রাজ্য প্রশাসন এবং কলকাতা পুলিশ এবার এক বিশেষ ‘নিরাপত্তা মডেল’ তৈরি করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইডেন গার্ডেন্স চত্বরে প্রায় ৪০ হাজার এবং রেড রোড সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড় সামাল দিতে এবং কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশনায় রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তারা নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপি এই উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও উৎসবের আয়োজনে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে একাধিক দাবি তোলা হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট এখন রাজ্য পুলিশের অন্দরমহলে আলোচনার মূল বিষয়। বিগত দিনের তুলনায় এবার নজরদারির ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

ইডেন গার্ডেন্সের মূল অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এছাড়া ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রেড রোডে যে দশ হাজার মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের জন্য আলাদা আলাদা সেকশন তৈরি করা হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব‍্যারিক্যাডিংয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও আনা হচ্ছে বিশেষ পরিবর্তন। মহালয়ার ভোর থেকে শুরু করে পুরো উৎসবের দিনগুলিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে লালবাজার থেকে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এই অনুষ্ঠানে ভিড় সামলানো ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার চাইছে, কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক ছাড়াই উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে। পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে লালবাজারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার ওপর এবার বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলে সাদা পোশাকে পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকবে যাতে পকেটমার বা অসামাজিক কার্যকলাপ রোখা সম্ভব হয়।

ইডেন চত্বরে প্রবেশ এবং প্রস্থান পথের জন্য আলাদা আলাদা রাস্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। যে সমস্ত ভিআইপি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, তাদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে হেল্প ডেস্ক খোলা হচ্ছে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে।

উৎসবের মরসুমে শহরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো চেষ্টা যাতে সফল না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগ। বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্দেহভাজনদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে ভিড় এড়াতে পুলিশের নির্দেশিকা মেনে চলা হয়। মহালয়ার এই বিশেষ দিনে লক্ষ লক্ষ মানুষের আবেগ জড়িয়ে থাকে। সেই আবেগ যাতে মর্যাদা পায় এবং কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, তার জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রেড রোডের অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি কোনো গাড়ি পার্কিং করতে দেওয়া হবে না। যারা অনুষ্ঠান দেখতে আসবেন, তাদের জন্য গণপরিবহনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষকেও বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে ট্রেনের সময়সূচীতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। সব মিলিয়ে, মহালয়ার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুলিশ এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি করেছে, যা শহরবাসীকে আশ্বস্ত করছে। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যাতে এবারের মহালয়া পালিত হয়, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে।