পাকিস্তানের লাহোরে এক আজারবাইজানি তরুণীকে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণ করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছে সেদেশের পুলিশ। বিদেশি এক নাগরিকের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে সচেতন মহল। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, গত সোমবার ওই তরুণী স্থানীয় এক ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিজের বয়ান রেকর্ড করিয়েছেন। এই বয়ানকে ভিত্তি করেই তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী লাহোরে আসার পর দুষ্কৃতীদের খপ্পরে পড়েন। অভিযুক্তরা তাঁকে কৌশলে মাদক খাইয়ে অচৈতন্য করে ফেলে এবং এরপরই তাঁর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। ভুক্তভোগী তরুণী জ্ঞান ফেরার পর স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই লাহোর পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে তিন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে। ঘটনার ভয়াবহতা এবং ভিনদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পাকিস্তান সরকারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন, সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন কীভাবে তাঁকে ভুল বুঝিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তাঁর পানীয়ের সঙ্গে মাদক মেশানো হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি অচেতন ছিলেন বলে জানিয়েছেন। ওই তরুণী বর্তমানে পুলিশের বিশেষ সুরক্ষায় রয়েছেন। চিকিৎসক এবং মনোবিদদের একটি বিশেষ দল তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। মামলার তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে এবং সবরকম আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান এবং বিশেষ করে লাহোরের মতো শহরে নিরাপত্তার চিত্র বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক অতীতে বিদেশি পর্যটকদের ওপর হামলার একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে, যা দেশের পর্যটন শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই ঘটনাটি সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আজারবাইজান সরকারের তরফেও এই বিষয়ে কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তরা স্থানীয় প্রভাবশালী কি না, তা নিয়েও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জল্পনা শুরু হয়েছে। তদন্তকারী দল বর্তমানে অভিযুক্তদের গোপন ডেরায় তল্লাশি চালাচ্ছে। যদিও এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কতজন সরাসরি জড়িত, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক জেরা ও বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত যে এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ।
বিচারব্যবস্থার ওপর যাতে কোনো চাপ সৃষ্টি না হয়, তার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট তদারকিতে পুরো আইনি প্রক্রিয়া চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, তথ্য-প্রমাণ অকাট্য হলে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। লাহোরের জনজীবনেও এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভের পারদ তুঙ্গে। স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধীদের কড়া শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। আগামী দিনে আদালতে চার্জশিট পেশ হলে আরও অনেক নতুন তথ্য সামনে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত এই মামলার দিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও। ঘটনার শিকড় কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের সাইবার শাখা এবং গোয়েন্দা বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। ভুক্তভোগী তরুণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।








