শিমলা: ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হিমাচল প্রদেশের শোগি সীমান্তে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন হিমাচল প্রদেশ পুলিশ দিল্লি পুলিশের কর্মীদের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করে তাদের যানবাহন আটকে দেয়। এই ঘটনার সূত্রপাত হয় আন্তর্জাতিক এআই সামিট (AI Summit) চলাকালীন এক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের একটি দল কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই হিমাচল সীমানায় প্রবেশ করে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে তাদের বিবাদ শুরু হয়। শিমলা পুলিশের দাবি, দিল্লি পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে হিমাচল প্রদেশের এক্তিয়ারে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সামিট বানচালের ষড়যন্ত্র ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। শোগি চেকপোস্টে দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা ধরে চলা এই অচলাবস্থা সাধারণ পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। হিমাচল পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, দিল্লি পুলিশের ওই দলের কাছে কোনো বৈধ সার্চ ওয়ারেন্ট বা ট্রানজিট রিমান্ডের নথিপত্র ছিল না। এর ফলে স্থানীয় পুলিশ তাদের গাড়িগুলো ‘ডিটেন’ বা আটক করতে বাধ্য হয়। বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক মোড় নিতে শুরু করলে দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। আইনি লড়াইয়ের এই টানাপোড়েনে হিমাচল পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও আইনি মর্যাদা রক্ষায় তারা কোনো আপস করবে না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সীমান্তের দুই পাশেই বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং এক পর্যায়ে দুই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও ঘটে। অবশেষে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে এবং দিল্লি পুলিশ লিখিতভাবে তাদের আইনি ত্রুটি স্বীকার করার পর এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান ঘটে। এই ঘটনাটি ফেডারেল কাঠামোর মধ্যে রাজ্য পুলিশের সাথে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন পুলিশের কাজের পরিধি ও সমন্বয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পুলিশের এমন অভ্যন্তরীণ সংঘাত আগে কখনও দেখা যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এখনো শোগি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এআই সামিটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের পুলিশি সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে আটক যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হলেও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে হিমাচল প্রদেশ সরকার। এই নজিরবিহীন বিরোধ ভারতের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে যেখানে দুই ভিন্ন অঞ্চলের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একে অপরের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিল।








