আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর থেকেই উত্তাল হয়ে আছে গোটা পশ্চিমবঙ্গ। এই আবহে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে মৃত চিকিৎসকের বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সরাসরি রাজ্য সরকারকে নিশানা করে প্রচার শুরু করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। পানিহাটির সোদপুর এলাকায় আয়োজিত এই প্রতিবাদ মিছিলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। সুকান্ত মজুমদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি বাংলার প্রতিটি মেয়ের নিরাপত্তার অধিকারের লড়াই। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পুলিশ ও প্রশাসন প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করছে এবং মূল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে। পানিহাটির অলিগলিতে এই পদযাত্রা চলাকালীন সুকান্ত মজুমদার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সিবিআই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, যে এলাকা থেকে নির্যাতিতা আসতেন, সেই মাটির মানুষ আজ বিচারের দাবিতে রাস্তায়। বিজেপির এই প্রচার কর্মসূচিতে স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক এবং ছাত্র সমাজকেও সামিল হতে দেখা যায়। মিছিলটি পানিহাটির বিটি রোড সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন মোড় প্রদক্ষিণ করে। সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট ভাষায় জানান, যতক্ষণ না পর্যন্ত নির্যাতিতা বিচার পাচ্ছেন এবং পর্দার আড়ালে থাকা ষড়যন্ত্রকারীরা ধরা না পড়ছে, ততক্ষণ বিজেপি রাজপথ ছাড়বে না। এই আন্দোলন কেবল কলকাতাকেন্দ্রিক নয়, বরং পাড়ায় পাড়ায় এবং ব্লকে ব্লকে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পানিহাটির এই এলাকায় প্রচারের সময় সুকান্ত মজুমদারের সাথে ছিলেন স্থানীয় নেতৃত্বরাও। তারা রাজ্য সরকারের পদত্যাগের দাবিও তোলেন। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, যেখানে একজন চিকিৎসক নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন যে, স্বাস্থ্যখাতে যে নৈরাজ্য চলছে তা আরজি করের ঘটনাতেই প্রমাণিত। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পানিহাটি জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে দেখা গেছে মিছিল চলাকালীন। সুকান্ত মজুমদার এই পদযাত্রার মাধ্যমে এক স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, পানিহাটির মানুষের আবেগ এবং ক্ষোভকে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লড়বে এবং শেষ পর্যন্ত এর মোকাবিলা করবে। সাধারণ মানুষের দাবি একটাই, দোষীদের ফাঁসি এবং বাংলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় থাকা সিন্ডিকেট রাজের অবসান। বিকেলের এই মিছিলে মানুষের ভিড় দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরজি কর কাণ্ড আগত উপনির্বাচন বা স্থানীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিজেপি এই ইস্যুটিকে যে কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে নারাজ, তা সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বাধীন এই প্রচার কর্মসূচীতেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। পানিহাটির সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে। লড়াই এখন কেবল বিচারের নয়, লড়াই এখন ব্যবস্থার পরিবর্তনের—এমন সুরই প্রতিধ্বনিত হয়েছে গোটা মিছিলে। সব মিলিয়ে রবিবার পানিহাটিতে সুকান্ত মজুমদারের এই সফর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।








