পকসো মামলায় স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দকে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

এলাহাবাদ হাইকোর্ট সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জ্যোতিষ পীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীকে পকসো (POCSO) আইনের অধীনে রুজু হওয়া একটি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা প্রদান করেছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। এই নির্দেশটি এমন এক সময়ে এল যখন ধর্মীয় মহলে এই মামলাটি নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়েছিল। বিচারপতিদের বেঞ্চ মামলার সমস্ত নথি পর্যালোচনা করার পর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। মামলার প্রেক্ষাপট বিচার করলে দেখা যায়, স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল যা পকসো আইনের আওতায় পড়ে। তবে তাঁর আইনি পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন যে, তাঁর মক্কেল একজন উচ্চপর্যায়ের ধর্মীয় গুরু এবং তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই মামলা সাজানো হয়েছে। আদালত এই যুক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করে আপাতত তাঁকে গ্রেফতারি থেকে রক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১২ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের হলফনামা এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। আইনজীবী মহলের মতে, এই অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের জন্য একটি বড় নৈতিক জয়। কারণ পকসো আইনের মামলা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এতে আইনি জটিলতা অনেক বেশি থাকে। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে অবস্থিত এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে আপাতত পুলিশি অভিযানের হাত থেকে মুক্তি পেলেন তিনি। ইতিপূর্বে স্থানীয় নিম্ন আদালত তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছিল, যাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টের এই হস্তক্ষেপের পর তদন্ত প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। মামলার গভীরে গিয়ে আদালত খতিয়ে দেখতে চায় যে, অভিযোগের সত্যতা কতটা এবং এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না। আগামী ১২ মার্চের শুনানিতে সরকার পক্ষকেও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত শঙ্করাচার্যকে দেওয়া এই সুরক্ষা বজায় থাকবে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে এই রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে সোচ্চার থেকেছেন, যা অনেক সময় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে এই আইনি লড়াই তাঁর ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভক্ত ও অনুগামীরা এই নির্দেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, সত্যের জয় হবে এবং আদালত শেষ পর্যন্ত তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করবে। প্রসঙ্গের খাতিরে উল্লেখ্য যে, এই মামলায় আইনি প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত রায় নির্ভর করবে সংগৃহীত তথ্যের ওপর। এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই মামলার ওপর কড়া নজর রাখছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।