বন অধিকার সেলে বড় সংস্কার আনছে কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয়

ভারত সরকারের আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের বন অধিকার আইন (FRA) বাস্তবায়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে। সাম্প্রতিক এক নীতিগত সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে রাজ্য এবং জেলা স্তরের বন অধিকার সেলগুলোকে কেবল তদারকি সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলোকে ‘ওয়ান-স্টপ’ প্রজেক্ট মনিটরিং ইউনিটে রূপান্তরিত করা হবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো বনবাসীদের জন্য প্রণীত সমস্ত সরকারি প্রকল্পের মধ্যে একটি সমন্বয় সাধন করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা। মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, এই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে আদিবাসী এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার তদারকি আরও গতিশীল হবে। তবে এই সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যেই কয়েকটি রাজ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ওড়িশা সরকার ইতিমধ্যেই তাদের ৫০টি বন অধিকার সেল বন্ধ করে দিয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওড়িশা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা তাদের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোর পুনর্গঠন করছে। অন্যদিকে, ছত্তিশগড় সরকার এই নতুন নির্দেশনা নিয়ে ধীরগতিতে এগোচ্ছে। সেখানকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তারা বর্তমানে কেন্দ্রের এই নতুন রূপরেখা পর্যালোচনা করছেন এবং রাজ্যের প্রেক্ষাপটে এর কার্যকারিতা খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন এই নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বন অধিকার আইনের অধীনে পাট্টা প্রদানের পাশাপাশি এখন থেকে এই সেলগুলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং টেকসই বন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কেন্দ্র চাইছে রাজ্যগুলো যেন এই সেলগুলোকে কেবল একটি আইনি সংস্থা হিসেবে না দেখে বরং আদিবাসী উন্নয়নের একটি কেন্দ্রীয় চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন সফল হলে বনবাসীদের জমির অধিকার লাভের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে এবং তারা সরাসরি সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আসতে পারবে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। জেলা পর্যায়ে জনবল বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি না করলে এই ‘ওয়ান-স্টপ’ সেন্টারের ধারণাটি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য আশাবাদী যে, রাজ্যগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই নতুন ব্যবস্থার সুফল মাঠ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ এবং ওড়িশার মতো আদিবাসী অধ্যুষিত রাজ্যগুলোতে এই পরিবর্তনের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। বন অধিকার সেলের এই রূপান্তর ভারতের বনাঞ্চলে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।