শ্রমিক শোষণের ‘আখড়া’ এক্সাইড! ৪ জুনের পর হিসেব হবে কড়ায়-গণ্ডায়: হুঙ্কার অর্জুন-রাজেশের

নিজস্ব প্রতিনিধি, জগদ্দল: ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শ্যামনগর এক্সাইড ব্যাটারি কারখানার গেটে আজ কার্যত রণংদেহী মেজাজে ধরা দিল বিজেপি নেতৃত্ব। জগদ্দল বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার এবং নোয়াপাড়া কেন্দ্রের প্রার্থী তথা ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের উপস্থিতিতে এক বিশাল পথসভা থেকে সরাসরি তোপ দাগা হলো কারখানার ম্যানেজমেন্ট এবং স্থানীয় শাসকদলের বিধায়ক পরিবারের ‘অশুভ আঁতাত’কে।

ম্যানেজমেন্ট-বিধায়ক ‘সেটিং’ নিয়ে বিস্ফোরক বিজেপি

এদিনের সভায় মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন জগদ্দলের প্রাক্তন বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম ও তাঁর পরিবার। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ,কারখানার একাংশ আধিকারিক কার্যত শাসকদলের দালালি করছেন। অভিযোগের সুর চড়িয়ে জানানো হয়:

১.পরিবারতন্ত্র ও ফায়দা: প্রাক্তন বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের স্ত্রীর নামে টেকনো ওয়ার্ল্ড কোম্পানিকে ব্যবসায়িক সুবিধা পাইয়ে দিতে কারখানার নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখানো হচ্ছে।

২.শ্রমিক শোষণ: সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে ম্যানেজমেন্টের একাংশ আধিকারিক নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন।

৩.রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: কারখানার ভেতরে বিজেপি সমর্থিত শ্রমিকদের ওপর বছরের পর বছর ধরে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হচ্ছে বলে সরব হন প্রার্থীরা।

“কারখানা কর্তৃপক্ষ মনে রাখবেন, কারোর ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জায়গা এটা নয়। ৪ তারিখের পর সমস্ত দুর্নীতির ফাইল খোলা হবে। শ্রমিকদের রক্ত চোষা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”

রাজেশ কুমার, বিজেপি প্রার্থী (জগদ্দল)

তদন্তের হুঁশিয়ারি অর্জুন সিংয়ের

ব্যারাকপুরের দাপুটে নেতা অর্জুন সিং এদিনের সভা থেকে সাফ জানান, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ভয় দেখিয়ে বা অত্যাচার করে দমানোর দিন শেষ হয়ে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, ম্যানেজমেন্টের একাংশ জেনেবুঝে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ক্যাডারের মতো আচরণ করছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলা হবে এবং প্রত্যেকটি অপকর্মের তদন্ত হবে।

ভোটের মুখে তপ্ত শিল্পাঞ্চল

রাজনৈতিক মহলের মতে, এক্সাইড কারখানার শ্রমিক ভোট জগদ্দল বিধানসভায় নির্ণায়ক ভূমিকা নেয়। তাই নির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে ম্যানেজমেন্ট এবং স্থানীয় বিধায়কের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে জনসমক্ষে এনে বিজেপি যে বড়সড় চাল চালল, তা বলাই বাহুল্য। কারখানা চত্বরে এদিনের এই পথসভাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এখন দেখার, বিজেপির এই ‘হুঁশিয়ারি’ ব্যালট বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে। ৪ জুনের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে শিল্পাঞ্চলের আপামর শ্রমিক কুল।