আবগারি মামলায় দিল্লি হাইকোর্টে হাজিরা দেবেন না, বিচারপতি স্বর্ণ কান্তাকে চিঠি কেজরিওয়ালের

দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লি হাইকোর্টে হাজিরা দেবেন না। তিনি বিচারপতি স্বর্ণ কান্তার আদালত বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি স্বর্ণ কান্তার যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন। এই বিষয়ে তিনি বিচারপতি স্বর্ণ কান্তাকে একটি চিঠি লিখেছেন।

কেজরিওয়াল বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বা আইনজীবীর মাধ্যমে বিচারপতি স্বর্ণ কান্তার সামনে হাজির হবেন না। তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, বিচারপতি স্বর্ণ কান্তার কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা তিনি হারিয়ে ফেলেছেন। “আমি গান্ধীজির সত্যাগ্রহ অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আমার বিবেকের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” কেজরিওয়াল বলেন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি স্বর্ণ কান্তার দেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার তিনি এখন বজায় রাখবেন। আবগারি মামলার শুনানি দিল্লি হাইকোর্টে চলছে।

কেজরিওয়ালের  আপত্তি

আবগারি নীতি মামলায় তাঁর মুক্তির বিরুদ্ধে সিবিআই-এর আবেদনের শুনানিতে থাকা বিচারকের বিরুদ্ধে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বেশ কয়েকটি আপত্তি তুলেছিলেন। এর মধ্যে ছিল যে, তিনি এর আগে তাঁর গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে করা একটি আবেদনে তাঁকে স্বস্তি দেননি এবং মনীশ সিসোদিয়া ও কবিতাসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের জামিনের আবেদনেও স্বস্তি দেননি। কেজরিওয়াল ছাড়াও আম আদমি পার্টির নেতা মনীশ সিসোদিয়া এবং দুর্গেশ পাঠকও এই মামলা থেকে বিচারপতি স্বর্ণ কান্তার সরে দাঁড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলেন। 

আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও অন্যদের দায়ের করা একটি আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি স্বর্ণ কান্তা আবগারি নীতি মামলার শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই শুনানির সময় বিচারপতি শর্মা বলেন যে, কোনো প্রমাণ ছাড়া কোনো বাদীকে একজন বিচারকের বিচার করার অনুমতি দেওয়া যায় না এবং কোনো বাদীর পক্ষপাতিত্বের ভিত্তিহীন ভয় দূর করার জন্য বিচারকরাও কোনো মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন না। 

তিনি বলেন যে, কোনো রাজনৈতিক নেতাকে ভিত্তিহীনভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার অনুমতি দেওয়া যায় না, কারণ একজন বিচারকের ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ স্বয়ং বিচার বিভাগের ওপরই আক্রমণ। বিচারপতি শর্মা উপসংহারে বলেন যে, তাঁর অপসারণ চেয়ে করা আবেদনগুলোর বিবরণ অনুমান এবং “কথিত পক্ষপাতিত্বের” ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিচারপতি বলেন, “এই আদালত নিজের এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য রুখে দাঁড়াবে। আমি এই বিষয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেব না।”