চুঁচুড়া: প্রার্থী তালিকা ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুঁচুড়ার রাজনীতির সমীকরণ বদলাতে ময়দানে নামলেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। তিনবারের বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও এবার টিকিট পাননি বর্ষীয়ান নেতা অসিত মজুমদার। ক্ষোভে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার কালীঘাট থেকে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই প্রিয়নগরের বিদায়ী বিধায়কের ‘অভিমান’ ছিল তুঙ্গে। সেই বরফ গলাতেই বুধবার সরাসরি অসিত মজুমদারের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন তৃণমূলের তরুণ তুর্কি দেবাংশু ভট্টাচার্য।
হাতের তালুর মতো চেনেন চুঁচুড়া, দাদার পাঠ নিলেন প্রার্থী
বুধবার বেশ কিছুক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয় দুজনের মধ্যে। বেরিয়ে এসে দেবাংশু ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, এই লড়াইয়ে অসিত মজুমদারের অভিজ্ঞতাকে তিনি পাথেয় করতে চান। দেবাংশুর কথায়:
“অসিতদা চুঁচুড়াকে হাতের তালুর মতো চেনেন। ওঁর মতো অভিজ্ঞতা আর কারও নেই। আমি মূলত ওঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে প্রণাম করতে এবং সাজেশন নিতে এসেছিলাম। উনি যা যা বলেছেন, সব আমি নোট করেছি। দরকার হলে দুদিন পর আবার আসব এবং ডায়েরিতে সব লিখে নেব।”
পাশে থাকার আবেদন
সূত্রের খবর, বর্ষীয়ান এই নেতার মান ভাঙাতে কোনও খামতি রাখছেন না দেবাংশু। তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে প্রচার চালানো উচিত এবং এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছানোর সঠিক পথ কী, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। দেবাংশু আরও বলেন, “দাদাকে অনুরোধ করেছি এই লড়াইয়ে আমার পাশে থাকার জন্য।”
জল্পনা কি মিটল?
মঙ্গলবার টিকিট না পেয়ে কার্যত ফেটে পড়েছিলেন অসিত মজুমদার। এমনকি রাজনীতি ছাড়ার কথা বলে অনুগামীদের মধ্যে আবেগের ঢেউ তুলেছিলেন। তবে দেবাংশুর এই ঝটিকা সফর এবং খোলামেলা আলোচনার পর চুঁচুড়ার ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কতটা প্রশমিত হয়, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক মহলের মতে, দেবাংশু শুরুতেই বর্ষীয়ান নেতার আশীর্বাদ নিয়ে নিজের লড়াইয়ের জমি শক্ত করতে চাইছেন।








