পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন উপনির্বাচন এবং সামগ্রিক নির্বাচনী প্রস্তুতির মাঝেই এক বিস্ফোরক দাবি নিয়ে সরব হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, রাজ্যে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বিরোধী সমর্থকদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আর এই কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ফর্ম ৭। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে কোনো ব্যক্তির নাম কর্তনের আবেদন জানাতে ফর্ম ৭ পূরণ করতে হয়। বিজেপির দাবি, নির্বাচন কমিশনের কিছু অসাধু আধিকারিক এবং শাসক দলের কর্মীরা মিলে জাল আবেদন জমা দিয়ে হাজার হাজার বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যতক্ষণ না পর্যন্ত জমা পড়া প্রতিটি ফর্ম ৭-এর স্বচ্ছতা যাচাই করা হচ্ছে এবং উপযুক্ত স্ক্রুটিনি সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রাজ্যে কোনো ভোট হতে দেওয়া হবে না। বিজেপির রাজ্য দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতারা জানান, তারা ইতিপূর্বেই এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে তথ্যপ্রমাণ সহ অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ভোটারের অজান্তেই তার নাম বাদ দেওয়ার জন্য অনলাইনে বা অফলাইনে আবেদন করা হয়েছে। বিজেপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য বলেন, ভোটার তালিকায় এই ধরনের গণহারে কারচুপি আসলে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার নামান্তর। ফর্ম ৭-এর এই অপব্যবহার বন্ধ না হলে আগামী দিনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিজেপির এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিজেপি এখন নির্বাচন থেকে পালানোর পথ খুঁজছে এবং অহেতুক নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা পাল্টা জবাবে বলেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যারা জালিয়াতি করছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। প্রতিটি বুথ স্তরে ফর্ম ৭ যাচাইয়ের জন্য বিজেপি তাদের কর্মীদের সতর্ক করেছে এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তারা চায় প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকুক। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে নাম বাদ দেওয়ার হিড়িক পড়েছে, তাতে কমিশন নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। আগামী উপনির্বাচনগুলোতে এই বিষয়টি বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে কমিশনের জন্য। যদি কমিশন এই দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা না করে, তবে বিজেপি বড় ধরনের গণআন্দোলনের পথে হাঁটারও পরিকল্পনা করছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন কীভাবে এই জটিলতা নিরসন করে এবং ফর্ম ৭ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের বিশেষ পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাজভবন থেকে শুরু করে দিল্লির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত এই দাবি পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। দলের আইনি সেল ইতিমধ্যেই প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করছে যেখানে অস্বাভাবিক হারে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়েছে। বিজেপির স্পষ্ট কথা, নির্বাচন কমিশনের উচিত অবিলম্বে একটি স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করে এই জমা পড়া আবেদনগুলো খতিয়ে দেখা। প্রকৃত ভোটারের ভেরিফিকেশন ছাড়া নাম বাদ দিলে তা হবে সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। রাজ্যজুড়ে এই ইস্যুতে বিজেপি তাদের বুথ স্তরের কমিটির সক্রিয়তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। সব মিলিয়ে ফর্ম ৭-এর স্ক্রুটিনি এখন রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।








