পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকায় বড়সড় বিভ্রান্তি সামনে এসেছে। ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের তারকা তথা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার রিচা ঘোষ এবং প্রাক্তন পেশাদার ফুটবলার মেহতাব হোসেনের নাম আপাতত ‘সন্দেহজনক’ তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কেবল ক্রীড়া জগতের নক্ষত্ররাই নন, এই তালিকায় নাম রয়েছে রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রিসভার তিন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যেরও। সূত্রের খবর, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারবিভাগীয় পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠছে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে অনেক যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ার উপক্রম হয়েছে। রিচা ঘোষের মতো জাতীয় স্তরের একজন খেলোয়াড়কে কেন এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হল, তা নিয়ে শিলিগুড়িতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মেহতাব হোসেন জানিয়েছেন যে, তিনি বরাবরই নিয়ম মেনে ভোট দিয়ে এসেছেন, কিন্তু এবার এই তালিকায় নাম দেখে তিনি বিস্মিত। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের মতে, একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে যেখানে ঠিকানা পরিবর্তন বা একই ব্যক্তির নাম একাধিক স্থানে থাকার মতো বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে একসাথে এত বিপুল পরিমাণ ভোটারের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অনেকেই হয়রানির আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় এবং সীমান্তের জেলাগুলিতে এই সংখ্যাটি অনেক বেশি। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই মুহূর্তে প্রতিটি নাম অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে যাচাই করা হচ্ছে এবং উপযুক্ত নথি দেখাতে পারলে কাউকেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না। এই তালিকায় মন্ত্রীদের নাম থাকাও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে মানুষের নাম সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি একটি স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ যেখানে সন্দেহজনক মনে হলে নামের পাশে ফ্ল্যাগ দেওয়া হয়। রিচা বা মেহতাবের মতো ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্ভবত টেকনিক্যাল ত্রুটি ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ নাগরিকদের অনেকেই অভিযোগ করছেন যে, বিএলও (BLO) স্তরে কাজ ঠিকমতো না হওয়ায় এই বিড়ম্বনা বাড়ছে। জেলাশাসকদের দপ্তরে অভিযোগের স্তূপ জমা পড়ছে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে নির্বাচনের চূড়ান্ত তালিকার আগে সমস্ত বিষয় সমাধান করা হবে যাতে কোনো প্রকৃত নাগরিকের নাম বাদ না পড়ে। কিন্তু ভোটের মুখে এই অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্কের সঞ্চার করেছে। আগামী কয়েক দিনে এই ৬০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক দলগুলি এই ইস্যুতে ইতিমধ্যে সরব হয়েছে এবং ভোটারদের সচেতন করার কাজ শুরু করেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কমিশনের ভূমিকা এখন সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে। কোনো ভুল সংশোধনের নামে যেন গণতন্ত্রের অধিকার কেড়ে নেওয়া না হয়, সেই দাবিতে সরব হয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।







