ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ

নয়াদিল্লি: সংসদীয় রাজনীতিতে এক বড়সড় পদক্ষেপের লক্ষ্যে এগোচ্ছে বিরোধী শিবির। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (CEC) বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহেই একটি অভিশংসন বা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ করা হতে পারে। এই ঘটনায় জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে এই পদক্ষেপের বিষয়ে জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে তাঁর পদ থেকে অপসারিত করা একটি অত্যন্ত জটিল এবং সুদীর্ঘ প্রক্রিয়া। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে যে পদ্ধতিতে সরানো হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও ঠিক একই নিয়ম প্রযোজ্য। সংসদের উভয় কক্ষে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এই প্রস্তাব পাস হওয়া বাধ্যতামূলক। বিরোধীরা কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনগুলির প্রস্তুতি এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অভিশংসন প্রস্তাবটি মূলত রাজ্যসভায় পেশ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধীরা একজোট হয়ে এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখনও বিশদ তথ্য সামনে আসেনি। তবে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, প্রমাণিত অসদাচরণ বা অক্ষমতার ভিত্তিতেই কেবল এই ধরণের প্রস্তাব আনা সম্ভব।

সংসদীয় রীতি মেনে এই প্রস্তাব আনতে হলে ন্যূনতম সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। বিরোধীরা সেই সংখ্যা জোগাড় করতে সমর্থ কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। যদি এই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়, তবে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে। এর আগে বিভিন্ন বিচারপতির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত পাস না হলেও এর মাধ্যমে কমিশন এবং সরকারের ওপর এক ধরণের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়। রাজ্যসভার চলতি অধিবেশনে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বাদানুবাদের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিরোধীদের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় শাসক দল কী অবস্থান নেয়, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চিত্রটি আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি বিরোধী দলগুলি ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রস্তাবটি পেশ করতে পারে, তবে সংসদের কাজকর্মে বড় ধরণের প্রভাব পড়তে পারে। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার সর্বোচ্চ পদের বিরুদ্ধে এই ধরণের পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করা উচিত। পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বর্তমানে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।