কলকাতা: বাংলায় তৃণমূল স্তরে দাবা খেলাকে ছড়িয়ে দিতে এবং উদীয়মান তরুণ প্রতিভাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য তৈরি করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল বেঙ্গল চেস অ্যাসোসিয়েশন (BCA)। রাজ্যে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে চলেছে ‘সিএফসি (CFC – চেস ফর চেঞ্জ) চেস অলিম্পিয়াড’। আগামী নভেম্বর মাসে বসতে চলেছে এই মেগা টুর্নামেন্টের আসর।
গত ২০শে জুলাই কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক দাবা দিবস র্যাপিড চেস টুর্নামেন্ট’-এর জমকালো মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেন ফিডে (FIDE) প্রশিক্ষক তথা বেঙ্গল চেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অতনু লাহিড়ী।

১৫ জেলার ৪০০ খুদে দাবাড়ুর লড়াই
আন্তর্জাতিক দাবা দিবস উপলক্ষে বিজেপি স্পোর্টস সেল (পশ্চিমবঙ্গ শাখা) এবং বেঙ্গল চেস অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই একদিনের টুর্নামেন্টে রাজ্যের ১৫টি জেলা থেকে প্রায় ৪০০ জন খুদে দাবাড়ু অংশ নেয়। এটি সাম্প্রতিককালে বাংলায় আন্তর্জাতিক দাবা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অন্যতম বৃহত্তম তৃণমূল-স্তরের দাবা প্রতিযোগিতা হিসেবে নজির গড়েছে। অনূর্ধ্ব-৭, অনূর্ধ্ব-৯, অনূর্ধ্ব-১১, অনূর্ধ্ব-১৩ এবং অনূর্ধ্ব-১৫—এই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী বালক ও বালিকাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ট্রফি ও নগদ অর্থ পুরস্কার।

এক মঞ্চে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ক্রীড়াতারকাদের মেলা
প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়াজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমাগমে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। উপস্থিত ছিলেন- পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, শ্রম মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য,২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে ব্রিজ খেলায় স্বর্ণপদক জয়ী প্রণব বর্ধন এবং পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি স্পোর্টস সেলের প্রধান দীপঙ্কর মোদক।
অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, রাজ্যের দাবার মানোন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের উন্নত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার বেঙ্গল চেস অ্যাসোসিয়েশনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ‘সিএফসি চেস অলিম্পিয়াড’
সাংবাদিক সম্মেলনে অতনু লাহিড়ী জানান, নভেম্বর মাসে প্রস্তাবিত ‘সিএফসি চেস অলিম্পিয়াড’-এর মূল লক্ষ্যই হলো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অংশের শিশুদের মূলধারার প্রতিযোগিতামূলক খেলায় নিয়ে আসা। প্রথম সংস্করণে প্রধানত পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে তৃণমূল স্তরে দাবা খেলার বিকাশ ও খেলাধুলার সর্বজনীন চরিত্র গড়ে তোলা যায়।
কর্পোরেট উদ্যোগের জোরালো সমর্থন
এই বর্ণাঢ্য টুর্নামেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পাশে ছিল বিশিষ্ট আবাসন সংস্থা ‘মার্লিন গ্রুপ’। সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকেত মোহতা আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন,”শিশুদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক এমন ক্রীড়া উদ্যোগের পাশে মার্লিন গ্রুপ সব সময় রয়েছে। দাবা কেবল একটি খেলা নয়, এটি একাগ্রতা, শৃঙ্খলা ও কৌশলগত চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটায়। এমন একটি মহান কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।”
ক্রীড়াবিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক দাবা দিবসে এমন এক টুর্নামেন্টের সফল আয়োজন এবং ‘সিএফসি চেস অলিম্পিয়াড’-এর ঘোষণা পূর্ব ভারতে দাবার বাণিজ্যিক ও গুণগত মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।








