উত্তরবঙ্গে আমূলের আইসক্রিম কারখানা, ১৫ একর জমি চিহ্নিত: মুখ্যমন্ত্রী

উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য এক সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত ইতিবাচক সুখবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের শিল্প মানচিত্রকে আরও সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী করতে উত্তরবঙ্গে একটি বিশালাকার আইসক্রিম কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫ একর জমি ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। মূলত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যবসায় দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং নির্ভরযোগ্য সংস্থা ‘আমূল’-এর কারখানা তৈরির লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কারখানা গড়ে উঠলে কেবল উত্তরবঙ্গের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিরই যে ব্যাপক উন্নতি ঘটবে তা নয়, বরং এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও প্রশাসনিক মহলের ধারণা।

একটি সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন যে, উত্তরবঙ্গ এখন উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। শিল্পায়নই বর্তমানে রাজ্য সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি জানান, আমূলের এই কারখানাটি চালু হলে স্থানীয় দুগ্ধচাষিরা তাদের উৎপাদিত দুধের জন্য সরাসরি এবং ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ডকে আরও শক্তিশালী করবে। এলাকায় নতুন শিল্পের জোয়ার আসায় পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত হবে। সরকারিভাবে জমি চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, এখন কেবল পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হওয়ার অপেক্ষা। প্রকল্পের বিশদ নকশা, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিনিয়োগের পরিমাণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানা গেছে।

এই ঘোষণার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার জন্য অত্যন্ত আবেগী ভাষায় আহ্বান জানিয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জীবিকার সন্ধানে বহু মানুষ দূর-দূরান্তে পাড়ি দেন, যা অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক বিচ্ছেদ ও অমানবিক কর্মপরিবেশের জন্ম দেয়। তাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিজের রাজ্যের মাটিতেই এখন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।” বাইরে গিয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে কাজ না করে নিজের রাজ্যে ফিরে আসতে তিনি শ্রমিকদের উৎসাহিত করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, রাজ্যে নতুন নতুন শিল্প গড়ে তোলার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেড়েছে এবং আগামী দিনে সরকারের শিল্পবান্ধব নীতির হাত ধরে তা আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ভিনরাজ্যে গিয়ে কাজ করার চেয়ে নিজের পরিবারের পাশে থেকে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে অবদান রাখা অনেক বেশি সম্মানজনক। বর্তমান সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে, যাতে প্রান্তিক মানুষ নিজের জেলা বা এলাকাতেই থেকে মর্যাদার সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। আমূলের এই কারখানা স্থাপনের বিষয়টি রাজ্য সরকারের শিল্প-বান্ধব নীতিরই একটি বড় প্রতিফলন। এর ফলে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তরবঙ্গের ভৌগোলিক গুরুত্ব এবং যাতায়াত ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখেই এই কারখানা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের জটিল কাজগুলি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেকোনো বিনিয়োগকারী যদি রাজ্যে শিল্প স্থাপন করতে এগিয়ে আসেন, তবে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে এবং জমি থেকে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর যোগান দিতে বদ্ধপরিকর।

যদিও এই প্রকল্পের মোট বিনিয়োগের সঠিক পরিমাণ এবং কারখানাটি ঠিক কবে নাগাদ পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যাবে, সেই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বর্তমান প্রতিবেদনে এখনও উপলব্ধ নয়। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর থেকে আগামী দিনে বিস্তারিত রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের মানুষ যে এই নতুন শিল্প প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কর্মসংস্থানের এই নতুন দিশা রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক নতুন দিগন্তের সূচনা।