অষ্টম শ্রেণি থেকেই ‘সারথি’ প্রকল্পে সাইকেল, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে এবং পড়াশোনার প্রসারে নজিরবিহীন উদ্যোগ গ্রহণ করল বর্তমান সরকার। সোমবার এক সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদেরও ‘সারথি’ প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে সাইকেল প্রদান করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রায় ১২ লক্ষ ৬০ হাজার ছাত্রছাত্রী সরাসরি উপকৃত হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের এই জনমুখী প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যে শিক্ষা মহলে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিনের সভায় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে সাইকেল বিলি করার প্রক্রিয়াটি ছিল মূলত লোকদেখানো এবং দুর্নীতির আখড়া। সেই সময় সাইকেল সরবরাহের নামে যে অব্যবস্থাপনা চলেছিল, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিগত সরকার শুধুমাত্র নিজেদের প্রচারের জন্য এই প্রকল্পকে ব্যবহার করেছিল, কিন্তু প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সাইকেল পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিস্তর গড়িমসি ছিল। বর্তমান সরকার সেই পুরোনো ভুল শুধরে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রতিটি পড়ুয়ার হাতে সাইকেল পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অষ্টম শ্রেণি থেকে সাইকেল দেওয়ার ফলে গ্রামবাংলার দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়ারা, বিশেষ করে ছাত্রীরা স্কুলমুখী হবে। এর ফলে স্কুলছুট হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করছেন শিক্ষাবিদরা। বিগত সরকারের আমলে সাইকেলের গুণমান নিয়ে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছিল, বর্তমান প্রশাসন সেই বিষয়েও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, উন্নত মানের সাইকেলই পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং কোনোভাবেই এতে অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের অধীনে সাইকেল বিলি নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আজ সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগে সাইকেলগুলো পাইকারি হারে সরবরাহ করা হলেও তা ব্যবহারের অনুপযুক্ত ছিল। বর্তমান সরকারের ‘সারথি’ প্রকল্পটি অনেক বেশি পরিকল্পিত এবং সময়োপযোগী। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। শিক্ষার প্রসারে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে কোনো আর্থিক ঘাটতি হতে দেওয়া হবে না।

এদিকে, বিরোধীদের পক্ষ থেকে এই ঘোষণার পর এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপি এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ছাত্রসমাজের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে তুলতে চাইছে। ১২ লক্ষ ৬০ হাজার পড়ুয়াকে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা প্রশাসনিক দিক থেকেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে অতি দ্রুত প্রতিটি স্কুলে সাইকেল পৌঁছানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর অভিভাবক মহলেও খুশির হাওয়া। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রীরা যারা দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যায়, তারা এই সাইকেল পাওয়ার ফলে পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী হতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের সঠিক রূপায়ণের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠনের কথাও ভাবছে সরকার, যাতে কোনো পড়ুয়াই এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।

প্রসঙ্গত, রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাইকেল প্রদানের পাশাপাশি মিড-ডে মিলের গুণমান বৃদ্ধি এবং স্কুলের পরিকাঠামো সংস্কারের কাজেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে এই প্রকল্পের সুফল কতটা ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা জেলাগুলিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলেও প্রশাসনের অন্দরমহলের খবর।