প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভিডিও সরিয়ে ফেলার জন্য ক্ষমা চেয়েছে মেটা, ভুল স্বীকার করলেন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স চিফ জোয়েল কাপলান

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ফেসবুক ভিডিও সরিয়ে ফেলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে। সংস্থাটির চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার, জোয়েল কাপলান, এই পদক্ষেপটিকে একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে বর্ণনা করেছেন। বুধবার মেটার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি এবং কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের মধ্যে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকের পর এই ঘটনাটি ঘটে।

একটি লিখিত বিবৃতিতে কাপলান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ফেসবুক পোস্টটি ব্লক হওয়ার ভুলের জন্য তিনি মেটার পক্ষ থেকে মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমা চেয়েছেন মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ। মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর পোস্টটি ব্লক হওয়ার ভুলের জন্য আমি মেটার পক্ষ থেকে মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি।”

ডিপফেক কন্টেন্টের জন্য ক্ষমা চাইলেন মার্ক জাকারবার্গ

বুধবার (৫ আগস্ট) সূত্র জানায়, বৈঠকের পর মেটা-র সিইও মার্ক জাকারবার্গ শিশু যৌন নির্যাতনমূলক সামগ্রী (সিএসএএম), ডিপফেক কন্টেন্ট এবং প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনায় করা ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে যে, মেটার টিমকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে তারা ‘মধ্যস্থতাকারী’র সংজ্ঞার আওতায় পড়ে না। সূত্রমতে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোই ঠিক করে কারা কন্টেন্ট পাবে, এবং সেই কারণে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ‘সেফ হারবার’ বিধানগুলো তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

মেটা টিম স্বীকার করেছে যে একটি নির্দিষ্ট ধরণের কন্টেন্টের প্রচারের জন্য ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ’ ব্যয় করা হয়েছিল। সূত্রগুলো আরও জানায়, “তারা ক্ষমা চেয়েছে এবং তাদের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।”

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মেটা প্রচুর অবৈধ বিষয়বস্তু প্রচার এবং একটি নির্দিষ্ট দর্শকগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অর্থের বিনিময়ে প্রচারণার কথা স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, “একটি নির্দিষ্ট দর্শকগোষ্ঠীর জন্যই অর্থের বিনিময়ে প্রচারণা চালানো হয়েছিল।”

সংসদীয় কমিটি মেটাকে সতর্ক করেছে

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরিয়ে ফেলার জন্য জাকারবার্গের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানোর পর এই ক্ষমা প্রার্থনাটি আসে।

ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপাদান (CSAM) সম্বলিত অর্থপ্রদত্ত বিজ্ঞাপনের কারণে মেটা নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তের আওতায় এসেছে। গত মাসে সরকার এই বিষয়ে কোম্পানিটিকে একটি নোটিশ জারি করেছে।

সর্বশেষ বিতর্কটি শুরু হয় প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২৩শে জুলাইয়ের ফেসবুক পোস্টটি সাময়িকভাবে স্থগিত করার মাধ্যমে, যেখানে তিনি যুবকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সরকারি সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন। মেটা এই ঘটনার জন্য একটি এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তিগত ত্রুটিকে দায়ী করে ক্ষমা চেয়ে পোস্টটি পুনরুদ্ধার করে, কিন্তু তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MeitY) এই ব্যাখ্যাকে “অপর্যাপ্ত” বলে অভিহিত করে এবং কোম্পানিটিকে তাদের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মেটা সরকারকে জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টগুলোর পোস্ট অতিরিক্ত নজরদারির আওতায় আনা হবে এবং মডারেশন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিক স্তরে সেগুলো পর্যালোচনা করবেন।