ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, হরমুজ প্রণালী দখলের হুমকি দিলেন তিনি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এবার সরাসরি সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন যে, ওই অঞ্চলে তেহরান যদি কোনওরকম উস্কানিমূলক বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ চালায়, তবে তিনি হরমুজ প্রণালীর পূর্ণ দখল নেওয়ার নির্দেশ দেবেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান যদি কোনওরকম ‘কিউট’ বা চাতুরি করার চেষ্টা করে, তবে তার ফল হবে মারাত্মক।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বিশাল অংশের অপরিশোধিত তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবাহিত হয়। গত কয়েক মাসে এই প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় পণ্যবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই হামলাগুলোর ফলে এখনও পর্যন্ত অন্তত সাতজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই প্রাণহানি এবং বাণিজ্যের নিরাপত্তার প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করার ইঙ্গিত দিয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দখল করার হুমকির মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন। এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথটি কৌশলগতভাবে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এর নিয়ন্ত্রণ হারানো ইরানের জন্য এক বিশাল বিপর্যয় হতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সামুদ্রিক বিমার হারে ব্যাপক রদবদল ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পূর্ববর্তী প্রশাসনের নমনীয় নীতির অবসান ঘটিয়ে তিনি এবার পেশিশক্তির মাধ্যমে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করবেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং মার্কিন মিত্রদের অভয় দিতে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি বা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এই পরিকল্পনাকে ট্রাম্পের বিদেশ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান এই হুমকির জবাবে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া না দিলেও, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।

গত কয়েক বছর ধরে হরমুজ প্রণালীতে একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও ইরান বারবার এই হামলার সঙ্গে নিজেদের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছে, তবুও আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্ররা তেহরানকেই এই অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করে আসছে। সাতজন নাবিকের মৃত্যুর ঘটনা এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ট্রাম্পের মতো কট্টরপন্থীর জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার।

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের এই হুমকি কেবল মুখেই সীমাবদ্ধ থাকে নাকি বাস্তবে প্রণালী দখলের কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর বিশ্ব রাজনীতি। তবে এই মূহূর্তে পেন্টাগন এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেই খবর। সামুদ্রিক বাণিজ্যের সুরক্ষায় আমেরিকা নিজের নৌবাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে সেখানে মোতায়েন করতে পারে এমন সম্ভাবনা প্রবল। ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আমূল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।