পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় রাজনীতির আঙিনায় রাজ্যসভা নির্বাচনের অধ্যায়টি এবার কোনো নাটকীয়তা ছাড়াই সমাপ্ত হলো। বিধানসভার সংখ্যার ভিত্তিতে যে সমীকরণ ছিল, সেই অনুযায়ী কোনো বাড়তি প্রার্থী না থাকায় নির্বাচন কমিশন পাঁচজনকেই জয়ী ঘোষণা করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে চারজনকে মনোনীত করা হয়েছিল, তাঁরা হলেন সাগরিকা ঘোষ, সুস্মিতা দেব, নাদিমুল হক এবং মমতা ঠাকুর। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই রাজ্যের জন্য মনোনীত প্রার্থী ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য।
তৃণমূল কংগ্রেসের তালিকায় এবার অভিজ্ঞ এবং নতুন মুখের ভারসাম্য দেখা গিয়েছে। সুস্মিতা দেব এবং নাদিমুল হক পুনরায় রাজ্যসভায় ফিরছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক সাগরিকা ঘোষকে মনোনয়ন দিয়ে তৃণমূল বড় চমক দিয়েছিল। মতুয়া ভোটের সমীকরণ মাথায় রেখে মমতা ঠাকুরকেও উচ্চকক্ষ তথা রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় দল। অন্যদিকে, বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যকে দিল্লি পাঠিয়ে গেরুয়া শিবির তাঁদের দক্ষ বাগ্মীকে সংসদীয় রাজনীতিতে ব্যবহারের সুযোগ করে দিল।
প্রথা অনুযায়ী, বিধানসভায় শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়ক সংখ্যার বিচারে কে কয়টি আসন পাবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। তৃণমূলের চারজন এবং বিজেপির একজনের জয় ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কোনো নির্দল প্রার্থী বা বাড়তি কেউ মনোনয়ন পত্র জমা না দেওয়ায় ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়েনি। রিটার্নিং অফিসার নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষে তাঁদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেন। এই জয়ের ফলে উচ্চকক্ষে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব আরও সুসংহত হলো।
বিজেপির জন্য এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এর ফলে উচ্চকক্ষে বাংলার প্রতিনিধি হিসেবে দলের শক্তি বৃদ্ধি পেল। শমীক ভট্টাচার্য দীর্ঘ সময় ধরে দলের হয়ে কাজ করছেন এবং এবার তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্তরে তাঁর ভূমিকা পালন করবেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের চার প্রার্থীর মাধ্যমে জাতীয় স্তরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের রসদ আরও মজবুত করল। বিশেষ করে মমতা ঠাকুরের অন্তর্ভুক্তি মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে বড় বার্তা বহন করছে।
তৃণমূল ও বিজেপি উভয় শিবিরের জয়ী প্রার্থীরাই এখন দিল্লির পথে। উচ্চকক্ষের সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁরা তাঁদের সংসদীয় মেয়াদে বাংলার দাবিদাওয়া তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই ফলের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়ে গেল যে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃতীয় কোনো শক্তির রাজ্যসভায় প্রবেশ করার মতো যথেষ্ট বিধায়ক সংখ্যা বর্তমানে নেই।








