কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে চলতি রমজান মাসে জনসংযোগের এক অন্য ছবি ধরা পড়ছে শহর থেকে গ্রামান্তরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইফতার মাহফিল এখন কেবল ধর্মীয় আচার পালনের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক কৌশলগত মেলবন্ধনের মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন বিধানসভা ও লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থীরা সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে ইফতারের আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছেন।
বিকেল গড়াতেই যখন আজানের ধ্বনি ভেসে আসছে, তখন দেখা যাচ্ছে হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বসে ফল, ছোলা বা শরবত খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করছেন। এই বিশেষ মূহুর্তগুলিতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। প্রচারের প্রথাগত ভাষণ বা স্লোগানের পরিবর্তে অত্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশে মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনা যাচ্ছে। ভোটারদের মন জিততে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিতে এই কৌশল অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কলকাতার পার্ক সার্কাস থেকে শুরু করে রাজাবাজার কিংবা দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এই ভিড় আরও বেশি চোখে পড়ছে। প্রার্থীরা শুধু ইফতার করছেন না, বরং মসজিদ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং এলাকার উন্নয়ন নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই মেলামেশার মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজেদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতে চাইছেন। বিশেষ করে দোদুল্যমান ভোটারদের (Swing Voters) নিজেদের দিকে টানতে ইফতারের এই মঞ্চগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিপরীত দিকে, সাধারণ ভোটাররাও তাঁদের এলাকায় প্রার্থীদের কাছে পেয়ে খুশি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক মেরুকরণের মাঝেও ইফতারের টেবিলে সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে বসছেন। প্রার্থীরা বলছেন, এটি তাঁদের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সরাসরি যোগ নেই। তবে ওয়াকিবহাল মহল বলছে, ভোটের মরসুমে প্রতিটি পদক্ষেপই হিসেব কষে ফেলা হয়। ইফতারের এই আয়োজন আদতে গ্রাউন্ড লেভেলে নিজেদের ভিত মজবুত করারই এক প্রক্রিয়া। আগামী কয়েক দফায় যে ভোট গ্রহণ হবে, তাতে এই ইফতার-কূটনীতি কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রার্থীরাও এক চিলতে হাসি আর সৌজন্য বিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়ার এই সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন।







