একই সময়ে দু’জায়গায় থাকা অসম্ভব, ক্ষোভ BLO-দের

নির্বাচনী কর্তব্যের জেরে একাধারে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র এবং বুথের বাইরে দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খাচ্ছেন বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO)। এই কঠিন পরিস্থিতির কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, একই সময়ে দু’টি ভিন্ন স্থানে উপস্থিত থাকা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এই দ্বৈত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁরা গুরুতর অসুবিধায় পড়ছেন।

সূত্রের খবর, রাজ্য জুড়ে BLO-দের উপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপানো হয়েছে। একজন BLO-কে ভোটদান কেন্দ্রের ভিতরে ভোটগ্রহণের মূল কাজ সামলাতে হচ্ছে, অথচ একই সঙ্গে বুথের বাইরে ভোটার তালিকা সংশোধন, নতুন ভোটার তালিকা তৈরিতে সাহায্য করা এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও তাঁর উপর অর্পিত। এই পরিস্থিতি যে কতটা জটিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে BLO অ্যাসোসিয়েশন। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের কাজের চাপ তাঁদের পক্ষে সামাল দেওয়া অসম্ভব।

BLO অ্যাসোসিয়েশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমাদের মূল দায়িত্ব হলো ভোটদান কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা। কিন্তু বর্তমানে আমাদের উপর যে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা দিশেহারা। একদিকে বুথের ভিতরে পোলিং অফিসার হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বুথের বাইরে ভোটার তালিকা নিয়ে নানা কাজ করতে হচ্ছে। একটি মানুষ কি করে একই সময়ে দু’টি জায়গায় থাকতে পারে? এটা আমাদের কাছে এক বিরাট প্রশ্ন।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, আমাদের কথা শোনার কেউ নেই। এই দ্বৈত দায়িত্ব পালনের ফলে একদিকে যেমন আমাদের শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে, তেমনই ভোটারদেরও অনেক সময় সঠিক তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে BLO-দের এই অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের উপর একটি নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের সকল BLO। তাঁদের আশা, কমিশন এই বিষয়ে সহানুভূতিশীল হবে এবং একটি বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করবে, যাতে তাঁরা তাঁদের মূল দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারেন এবং ভোটারদেরও সঠিক পরিষেবা দিতে পারেন।

এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য, যেমন – নির্দিষ্ট কোন কোন বিধানসভা কেন্দ্রে এই সমস্যা বেশি হচ্ছে, বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশিকা জারি হয়েছে কিনা, সেই সমস্ত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে, BLO-দের এই অভিযোগ রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে কর্মীদের উপর কাজের চাপ এবং তাঁদের সমস্যার দিকটি আরও একবার সামনে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সাফল্যের জন্য BLO-দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের কাজের সুবিধার জন্য এবং তাঁদের উপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমাতে নির্বাচন কমিশনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। একদিকে যেমন ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা প্রয়োজন, তেমনই ভোটারদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করাও জরুরি। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। BLO-দের এই সমস্যা যদি দ্রুত সমাধান না করা হয়, তবে তা আগামী নির্বাচনগুলিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে, কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি এবং তাঁদের কাজের পরিবেশ উন্নত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে BLO-দের এই ধরনের অভিযোগ আসতে থাকায়, বিষয়টি এখন আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের উচিত কর্মীদের সঙ্গে আরও বেশি আলোচনা করা এবং তাঁদের বাস্তবসম্মত সমস্যার কথা মাথায় রেখে কাজের চাপ নির্ধারণ করা। নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন এবং তাঁদের সমস্যা সমাধানের মাধ্যমেই একটি সুস্থ ও অবাধ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। এই পরিস্থিতিতে, নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর সকলের নজর থাকবে।

সমস্যার মূলে রয়েছে, BLO-দের উপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজের চাপ। এই চাপ সামলাতে গিয়ে তাঁদের মূল নির্বাচনী কর্তব্য পালনে বিঘ্ন ঘটছে। তাই, এই দু’টি ভিন্ন ধরনের কাজকে আলাদা আলাদা ভাবে বিভাজন করা বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়া যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখা উচিত। যেহেতু, BLO-রাই একেবারে তৃণমূল স্তরে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাই তাঁদের সুষ্ঠুভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কাম্য।

এই পরিস্থিতি যে কতটা গুরুতর, তা BLO-দের কথায় স্পষ্ট। তাঁদের বক্তব্য, “আমাদের জীবনটা এখন বড্ড কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে পরিবার, অন্যদিকে নির্বাচনী দায়িত্ব – সব মিলিয়ে আমরা দিশেহারা। আশা করি, আমাদের এই সমস্যাগুলি সরকার এবং নির্বাচন কমিশন দ্রুত শুনবে।” তাঁদের এই আর্তি সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছাবে, এমনটাই আশা করা যায়।

অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং সময়ের অভাবের কারণে BLO-দের কর্মক্ষমতা ও মনোভা​বেও প্রভাব পড়ছে। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য, যেমন – এই সমস্যা সমাধানের জন্য BLO অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক প্রস্তাবিত নির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা আছে কিনা, বা রাজ্য সরকার এই বিষয়ে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে কিনা, সেই সংক্রান্ত কোনো তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এই সকল তথ্য পাওয়া গেলে, সমস্যার গভীরতা এবং সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং দায়িত্বের দ্বন্দ্বে জেরবার BLO-দের এই অবস্থা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি বড় পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য কমিশন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তা আগামী দিনে রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলবে।

4 COMMENTS

Comments are closed.