ত্রান বিলিতে বাধা,তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলে উত্তাল বেলঘরিয়া

164

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,ব্যারাকপুরঃ ত্রান বিলি নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলে উত্তাল বেলঘরিয়া। নিজের পাড়ায় বন্ধুদের সাথে নিয়ে তৃণমূলকর্মী এক যুবক ত্রান বিলি করতে থাকেন লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় দরিদ্র মানুষদের মধ্যে।দেখতে পেয়ে ওই তৃণমূলকর্মী যুবককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল ওই দলেরই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। ক্ষিপ্ত জনতা ওই কাউন্সিলরের বাড়ি ভাঙচুর করে। আক্রান্ত ওই যুবক সঙ্কটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন কলকাতার পি জি হাসপাতালে।

সোমবার রাতে কামারহাটি পৌরসভার 29 নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বেলঘরিয়া বাসুদেবপুর এলাকায় তৃণমূলকর্মী হিসেবে পরিচিত একদল যুবক পাড়ার কয়েকজন দুস্থদের ত্রাণ বিলি করছিল।অভিযোগ, সেই সময় পাড়ার ছেলেদের কাউন্সিলর রুপালী সরকার বলেন ,আমি থাকতে তোরা কেন এখানে ত্রান দিচ্ছিস।সৌমেন দাস নামে এক তৃণমূলকর্মী তখন বলেন যে, আমরা নিজেরাই অল্প কিছু জোগাড় করতে পেরেছি তাই সেগুলই বিলি করছি। আপনি যা দেবেন সেটাও ওনাদের কাজে লাগবে।এই কথা শুনে রেগে গিয়েই কাউন্সিলর রুপালী সরকার সৌমেনের চুলের মুঠি ধরে ঝাঁকাতে শুরু করেন,তারপর তার সাথে থাকা ছেলেরা বাঁশ,লাঠি ও রড দিয়ে ব্যপক মারধর করে বলে অভিযোগ করেন সৌমেনের মা অনিতা দাস।

তারপর তাঁকে গুরুতর জখম অবস্থায় প্রথমে সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আরজিকর হাসপাতালে সেখান থেকে পি জি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।কিন্তু আজ সকালে মারা যায় সৌমেন, এমন একটা ভুল খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এরপরই উত্তেজিত জনতা রূপালী সরকারের বাড়িতে ভাঙচুর করে। ঘটনাস্থলে আসে বেলঘড়িয়া থানার পুলিশ। পুলিশকে লক্ষ্য করে শুরু হয় ইট বৃষ্টি। এতে এক পুলিশ কর্মী আহত হন।পরিস্থিতি সামাল দিতে  পুলিশও পাল্টা লাঠিচার্জ করে।চালানো হয় কাঁদুনে গ্যাস।

কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, ‘ শরীর খারাপ থাকায় আমি নিজে এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি, তবে শুনেছি সৌমেন দাস নামে যে ছেলেটি হাসপাতালে ভর্তি আছে, আজ সকালে একটি ভুয়ো খবর রটে যায় যে, ওই ছেলেটি নাকি মারা গিয়েছে। তাতেই ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।এর বেশি কিছু আমি বলতে পারব না।বিকেলে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে বাকিটা জানাব।’ তবে সঠিক সময়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি কামারহাটির চেয়ারম্যান গোপাল সাহা।