বিজপুরে ছেলের উপর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হামলা, জেনে ফেলায় হৃদরোগে মৃত্যু বৃদ্ধার

আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর বাড়ির সামনে ভিড় ।

 

সৌভিক সরকার, বারাকপুরঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সকল ভারতবাসীর উদ্দ্যেশ্যে একটি চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠি ‘গৃহসম্পর্ক’ অভিযানের মধ্য দিয়ে প্রত্যেক ভারতবাসীকে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পৌছঁনোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে। দলীয় সেই কর্মসূচি  নিয়ে আলোচনা সেরে পার্টি অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী দ্বারা আক্রান্ত হলেন বিজেপির সক্রিয় কর্মী। সাথে ছেলে আক্রান্ত হয়েছে শুনে আতঙ্কিত হয়ে মৃত্যু হল ৮০ বছরের তাঁর বৃদ্ধা মা-য়ের। মৃতের নাম ছায়ারানী সরকার।ঘটনাটি ঘটেছে বীজপুর থানার জেঠিয়া পঞ্চায়েতের মালঞ্চ পঞ্চাননতলায়।

আক্রান্ত বিজেপিকর্মী।

আক্রান্ত বিজেপি কর্মী সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান,  ‘গত শুক্রবার রাতে জনসম্পর্ক যাত্রার মোদীজির চিঠি বাড়ি বাড়ি পৌঁছনর কর্মসূচি নিয়ে নিয়ে মণ্ডল সভাপতির সাথে আলোচনা সেরে পার্টি অফিস থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলাম। হঠাৎই জেঠিয়া পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান অশোক দাস ওরফে কালাচাঁদের নেতৃত্বে দলবল নিয়ে আমার উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। লাঠি,বাঁশ, লাথি ঘুসি চলতে থাকে আমার উপর’।গুলি করে প্রাণে মেরে ফেলারও  হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন আক্রান্ত ওই বিজেপিকর্মী সুভাষ সরকার।

শনিবার বেলার দিকে আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যান সাংসদ অর্জুন সিং, ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উমা শঙ্কর সিং,বাগদার বিধায়ক দুলাল বর।

সাংসদ অর্জুন সিং এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমন করে বলেন,উপ-প্রধান কালাচাঁদ ও তার দলবল বিজেপি কর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছে। ছেলের ওপর আক্রমণ সহ্য করতে না পেরে ওর বৃদ্ধা মা মারা গেলেন।আপনার পরিবারের সঙ্গে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তখন আপনার ভালো লাগবে তো?,এমনই প্রশ্ম সাংসদ অর্জুন সিংয়ের। তিনি জানান, এই ঘটনার বিরুদ্ধে তারা রাজ্যপালের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এদিন তিনি দাবি করলেন, এই ঘটনায় ৩০৪ ধারায় মামলা হওয়া উচিত। আদালতের মাধ্যমে এই ঘটনার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

বিজেপি বিধায়ক দুলাল বর মুখ্যমন্ত্রীকে একহাত নিয়ে বলেন,উনি তো জীবনে মা হননি। তাই সন্তানের জ্বালা বুঝবেন কি করে।আমার খুব লজ্জা করছে, এই সেই মমতা ব্যানার্জি যিনি 2011 সালের আগে বিরোধীদলের নেত্রী ছিলেন। যিনি বারেবারে বলেছেন বিরোধীদের মর্যাদার কথা। আজ ক্ষমতায় এসে তার আর কিছু মনে নেই! বিরোধী দল করলেই এইভাবে মারধোর করছেন তাঁর দলের প্রধান থেকে শুরু করে কর্মীরা। থানায় এফআইআর করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে চায় না। পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে দুলাল বাবু বলেন, পুলিশ অফিসারদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে ।সরকারের দলদাস হয়ে কাজ করছে পুলিশ।আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

উপ-প্রধান আশোক দাস।

পাশাপাশি এই ঘটনা প্রসঙ্গে জেঠিয়া পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান আশোক দাস বলেন, বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। মালঞ্চ পঞ্চাননতলায় বিজেপির পার্টি অফিসে মদ খাওয়ার প্রতিবাদ করা হয়েছিল। দুপক্ষের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি হয়েছিল মাত্র। ওনার মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার জেরেই মৃত্যু হতে পারে বলে তিনি জানান।তিনি আরও বলেন, এখন কি তাহলে বিজেপি মৃত্যু নিয়েও রাজনীতি করছে।