যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়, হামলা জারি রাখার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েলের প্রথম বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মার্কিন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা তাদের শর্তও পেশ করেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে যে, ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পোস্ট করা হয়েছে, “ইসরায়েল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে, এই শর্তে যে ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, এর আরব প্রতিবেশী এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য ইরান যেন আর কোনো পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসী হুমকি না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকেও ইসরায়েল সমর্থন করে।”

ইরানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ইসরায়েলকেও এ বিষয়ে অবহিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে জানিয়েছে যে, আসন্ন আলোচনায় তারা এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইসরায়েলের আঞ্চলিক মিত্রদের অভিন্ন লক্ষ্য। এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত নয় লেবানন।

ইসরায়েল দাবি করেছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার চার ঘণ্টা পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ পোস্ট আসে। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে যে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের বিপরীত দাবি সত্ত্বেও এতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে, এই শর্তে যে ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করবে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক পোস্টে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে আশ্বাস দিয়েছে যে আসন্ন আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইসরায়েলের আঞ্চলিক মিত্রদের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো অর্জনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

ইসরায়েলের ওয়াইনেট নিউজের মতে, ইসরায়েলের ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে লেবানন শান্তি আলোচনার অংশ, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা পরস্পরবিরোধী সংকেত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও ইরান উভয়ই পূর্বে জানিয়েছে যে, যেকোনো যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার জন্য লেবাননের অন্তর্ভুক্তি একটি পূর্বশর্ত।

ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, লেবানিজ ফ্রন্টকে অন্তর্ভুক্ত না করা হলে তারা কোনো অস্থায়ী শান্তি মেনে নেবে না। এই পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায় যে, যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো ইতিমধ্যেই নড়বড়ে হয়ে পড়ছে, কারণ ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার ব্যাপারে অনড়।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরানের আরব প্রতিবেশী দেশগুলো এবং বিশ্বের জন্য ইরান যাতে আর কোনো পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসী হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার মার্কিন প্রচেষ্টাকেও ইসরায়েল সমর্থন করে। ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল সমর্থন করে, এই শর্তে যে ইরান অবিলম্বে দামেস্ক প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও এই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করবে।