দীর্ঘ পাঁচ দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নের সঠিক পথে ফিরেছে বলে মন্তব্য করলেন ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক। রবিবার কলকাতায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, দীর্ঘ সময় ধরে যে স্থবিরতা রাজ্যকে গ্রাস করেছিল, তা কাটিয়ে বর্তমান সময়ে উন্নয়নের যে গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে এই অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি প্রশাসনিক তৎপরতাও অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নবীন পট্টনায়েকের মতে, গত কয়েক বছরের শাসনকালে শিল্পায়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নে যে নতুন দিশা তৈরি হয়েছে, তা রাজ্যের বিগত কয়েক দশকের ইতিহাসে বিরল। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ শাসনকালের পরবর্তী সময়ে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, তা এখন সাধারণ মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হচ্ছে। যদিও বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও তিনি কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নবীন পট্টনায়েকের এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি দীর্ঘকাল ওড়িশার শাসনভার সামলেছেন এবং রাজ্যের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, একটি রাজ্যের উন্নয়ন নির্ভর করে তার শিল্পবান্ধব নীতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর। পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন শিল্পায়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে কলকাতা পুনরায় তার হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার দৌড়ে শামিল হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বুদ্ধিজীবী এবং সুধী সমাজও নবীন পট্টনায়েকের এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। তাঁরা মনে করছেন, পাঁচ দশক ধরে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কর্মসংস্থানের সংকট রাজ্যে বজায় ছিল, তা থেকে মুক্তি পাওয়ার এটাই মোক্ষম সময়। বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগগুলি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়ক হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও মজবুত করতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলিতে আরও বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে পট্টনায়েক সতর্ক করেছেন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে রাজ্যের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বহু সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নবীন পট্টনায়েক সেই প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ না করলেও, পরোক্ষভাবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বিচক্ষণতার প্রশংসা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই, কিন্তু উন্নয়নের প্রশ্নে শাসক এবং বিরোধী উভয় পক্ষেরই গঠনমূলক মানসিকতা প্রয়োজন। বিজেপি সরকারের অধীনে রাজ্য যেভাবে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে, তা আগামী দিনে ভারতকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পরিশেষে, বাংলার এই উন্নয়নের যাত্রা দীর্ঘস্থায়ী হোক এবং সাধারণ মানুষ যাতে এর সুফল পান, সেই বার্তাই দিয়েছেন ওড়িশার এই প্রবীণ নেতা। তিনি এও জানিয়েছেন যে, বর্তমানের এই সাফল্য কেবল সরকারের কৃতিত্ব নয়, এর পেছনে রাজ্যের মানুষের পরিশ্রম এবং ধৈর্যের বড় অবদান রয়েছে। উন্নয়নের এই গতিপথ যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে সরকার এবং বিরোধী দল, উভয়কেই নজর রাখতে হবে। বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক বাতাবরণে এই ধরণের ইতিবাচক মন্তব্য বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।








