চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই বড় ধরনের রদবদল ঘটালেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (কমান্ডার-ইন-চিফ) ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা রুশ আগ্রাসনের মুখে ইউক্রেন যখন কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের সামরিক নেতৃত্বের এই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বরখাস্তের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে ঠিক কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পদ থেকে সরানো হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এই মুহূর্তে সরকারিভাবে জানানো হয়নি। যুদ্ধের ময়দানে ইউক্রেনীয় বাহিনীর কৌশলগত ব্যর্থতা নাকি নেতৃত্বের অসংগতি, তার কোনো স্পষ্ট কারণ এখনো সামনে আসেনি। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী গত কয়েক মাসে পূর্বাঞ্চলীয় ফ্রন্টে তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। রুশ বাহিনীর ক্রমাগত আক্রমণ এবং কৌশলগত এলাকাগুলো হাতছাড়া হওয়ার জেরে জেলেনস্কি প্রশাসনের অন্দরে সামরিক নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এর আগেও বিভিন্ন সময় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জেরে সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রদবদল করা হয়েছে, যা ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে বেশ সংবেদনশীল বলে বিবেচিত হয়।
ওলেক্সান্দর সিরস্কি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন এবং বড় ধরনের যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তার হঠাৎ অপসারণের ঘটনা ইউক্রেনীয় সেনার মনোবলের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা যখন ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত জরুরি, তখন সেনাপ্রধানের পরিবর্তনকে অনেকেই একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
এদিকে, পরবর্তী সেনাপ্রধান কে হতে চলেছেন বা কার ওপর এই বিশাল দায়িত্ব অর্পণ করা হবে, সেই বিষয়ে এখনো কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নেতৃত্বের নাম খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরো বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে সামাল দেওয়া হচ্ছে।
ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলো, বিশেষ করে ন্যাটো এবং পশ্চিমা সামরিক জোট এই সিদ্ধান্তের দিকে কড়া নজর রাখছে। যুদ্ধের মাঝপথে এমন নাটকীয় পরিবর্তন সামরিক রণকৌশলের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন গোটা বিশ্ব। সাধারণ ইউক্রেনীয় নাগরিকদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, কারণ দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জেরে মানুষ এখন সামরিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করছে।
যথাযথ দায়িত্বভার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, বা সিরস্কির পরবর্তী ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত অন্যান্য বিষয় ও সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশটির সামরিক দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের ওপরই সব দায়িত্ব থাকবে।
সংবাদটি লেখা পর্যন্ত রণক্ষেত্র বা কিয়েভের কূটনৈতিক মহলে এই রদবদল নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই বিষয়টিকে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ধাক্কা হিসেবেই দেখছে, যা চলমান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে। যুদ্ধের আবহে সামরিক প্রধানের এই আকস্মিক বিদায় ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে কতটা বাড়িয়ে দেয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।








