যুদ্ধের আবহে পেট্রোলের দাম ৫ টাকা, ডিজেলের দাম ৩ টাকা বাড়ল, শহর অনুযায়ী নতুন দর জেনে নিন

Petrol D

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। দেশের বৃহত্তম বেসরকারি জ্বালানি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান নায়ারা এনার্জি বৃহস্পতিবার পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটি প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৫.৩০ টাকা এবং প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৩ টাকা বাড়িয়েছে, যা সাধারণ মানুষের উপর মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

শহর অনুযায়ী পেট্রোলের দাম নিম্নরূপ – হায়দ্রাবাদে প্রতি লিটার ১০৭.৪৬ টাকা, কলকাতায় ১০৫.৪১ টাকা, মুম্বাইয়ে ১০৩.৫৪ টাকা, বেঙ্গালুরুতে ১০২.৯২ টাকা, ভুবনেশ্বরে ১০১.১৯ টাকা, চেন্নাইয়ে ১০০.৮০ টাকা, নয়ডায় ৯৫.১৬ টাকা এবং গুরুগ্রামে প্রতি লিটার ৯৫.৫৭ টাকা।

ডিজেলের দামের কথা বলতে গেলে, এটি হায়দ্রাবাদে প্রতি লিটার ৯৫.৭০ টাকা, ভুবনেশ্বরে ৯২.৭৭ টাকা, চেন্নাইতে ৯২.৩৯ টাকা, কলকাতায় ৯২.০২ টাকা, বেঙ্গালুরুতে ৯০.৯৯ টাকা, মুম্বাইতে ৯০.০৩ টাকা, নয়ডায় ৮৮.৩১ টাকা এবং গুরুগ্রামে প্রতি লিটার ৮৮.০৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নায়ারা এনার্জির সারা দেশে ৬,৫০০-এর বেশি পেট্রোল পাম্প (খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র) রয়েছে। এটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেসরকারি খাতের তেল শোধনাগার এবং খুচরা নেটওয়ার্ক কোম্পানি।

মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি কি বেড়েছে?

ইরান যুদ্ধের মধ্যে নায়ারা এনার্জির পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন এর আগে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি) থেকে শুরু করে ভারত পেট্রোলিয়ামের মতো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল সংস্থাগুলো প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বাড়িয়েছে। 

শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত ডিজেলের দামও বাড়ানো হয়েছে, যা শিল্পের উপর খরচের চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধির পর বৃহস্পতিবার হায়দ্রাবাদে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১০৭.৪৬ টাকায় পৌঁছেছে, অন্যদিকে মুম্বাই ও কলকাতার মতো শহরগুলিতে পেট্রোল এখন ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতসহ অনেক দেশের জ্বালানি সংকট আরও গভীর হয়েছে।

এলপিজিরও ঘাটতি রয়েছে

জ্বালানি ঘাটতির খবরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এদিকে, এলপিজি ঘাটতির কারণে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই খাতের সঙ্গে জড়িতরাও দুর্ভোগে পড়েছেন এবং দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।

মার্কিন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকারী তেহরান ভারত, পাকিস্তান ও আরও তিনটি দেশকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ছাড় ভারতের জ্বালানি সংকটে কিছুটা স্বস্তি দিতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আংশিকভাবে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে।

2 COMMENTS

Comments are closed.