নয়াদিল্লি: দেশের সাধারণ মানুষের আকাশপথের যাত্রাকে আরও সুগম ও আরামদায়ক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ এক প্রস্তাব রাখলেন আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। কেন্দ্র সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ ‘উড়ান যাত্রী ক্যাফে’ (Udaan Yatri Cafes) যাতে ভারতের প্রতিটি বিমানবন্দরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, সেই মর্মে তিনি আর্জি জানিয়েছেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে এই পরিষেবা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন এই তরুণ সাংসদ।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই উড়ান যাত্রী ক্যাফে প্রকল্পের সূচনা করেছিল ভারত সরকার। মূলত বিমানবন্দরগুলিতে খাবারের আকাশছোঁয়া দামের সমস্যার সমাধান করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সাধারণ মানুষ যাতে সস্তায় এবং গুণমান বজায় রেখে খাবার ও পানীয় জল পেতে পারেন, সেটাই ছিল এই সরকারি ক্যাফেগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পরিষেবার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঘব চাড্ডা এর পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।
সাংসদ রাঘব চাড্ডার মতে, দেশের বড় মেট্রো শহরগুলি থেকে শুরু করে ছোট শহর—সর্বত্রই বিমানযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বিমানবন্দরের টার্মিনালগুলির অভ্যন্তরে বেসরকারি বিপণিতে খাবারের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে থাকে। বিশেষত সাধারণ মধ্যবিত্ত যাত্রী এবং পড়ুয়াদের জন্য এই ক্যাফেগুলি একটি বড় আশ্রয় হতে পারে। তাই শুধুমাত্র বাছাই করা কিছু জায়গায় সীমাবদ্ধ না রেখে একে দেশের প্রতিটি প্রান্তে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালুর পর থেকেই এই প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগটি মূলত যাত্রীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছিল। রাঘব চাড্ডা মনে করেন, যদি প্রতিটি এয়ারপোর্টে এই পরিষেবা চালু করা যায়, তবে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে একচেটিয়া ব্যবসার যে ধারা চলছে, তার ওপর রাশ টানা সম্ভব হবে। সাধারণ মানুষকে জল বা জলখাবারের জন্য আর বাড়তি পকেট খসাতে হবে না।
এই প্রস্তাবের সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে সাংসদ আরও জানান যে, পরিকাঠামোর উন্নয়ন মানে কেবল নতুন বিমানবন্দর তৈরি নয়, বরং যাত্রীদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ‘উড়ান যাত্রী ক্যাফে’ সেই লক্ষ্য পূরণে একটি সফল হাতিয়ার হতে পারে। এখন দেখার, সরকারের তরফে এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ২০২৬ সালে শুরু হওয়া এই পথচলা কতদূর পৌঁছায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের সাধারণ বিমানযাত্রীরা।








