শিলিগুড়িতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী খোদ রাষ্ট্রপতি পদের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করছেন না। শনিবার সেই অভিযোগের পালটা জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বিশেষ আলোকচিত্র তুলে ধরেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেখানে বসে আছেন। এই ছবিটিকে ঢাল করেই মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন যে, আসলে কে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে শ্রদ্ধা জানান আর কে জানান না, তা এই ছবি থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাফ জানিয়ে দেন যে, রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করার যে অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী তুলেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি যুক্তি দেন, শিলিগুড়ির ওই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পাওয়ার পরই রাজ্য সরকারের তরফে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ততা ও অন্যান্য সমস্যার কারণে রাজ্য সরকার সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবে না। আয়োজকদের আগেই এই অপারগতার কথা জানিয়ে দেওয়ার পরেও কেন রাজনীতি করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, রাজ্য সরকার তার অবস্থান স্পষ্ট করার পরেও কেন্দ্র কেন বিষয়টি নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা ছড়াচ্ছে, তার দায় সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরই বর্তায়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রপতির নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার সর্বদা দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। রাষ্ট্রপতির পদকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি করা অনুচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। হাতে থাকা ছবিটি দেখিয়ে তিনি বলেন, “কে রাষ্ট্রপতিকে শ্রদ্ধা করেন তার প্রমাণ এই ছবিতেই রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রীকে বিঁধে মমতা বলেন যে, তথ্য যাচাই না করে এই ধরণের মন্তব্য করা উচিত নয়। রাজ্য যে এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে আগেই তাদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছিল, সেই নথির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছাল। শিলিগুড়ির সরকারি অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পালটা আক্রমণের পর তা এক নতুন মাত্রা নিল। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির প্রতি সৌজন্য প্রদর্শনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দুপক্ষের এই বাকযুদ্ধ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট শোরগোল ফেলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রশাসনিক সৌজন্য রক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কোনও ত্রুটি ছিল না, বরং বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অযথা কুৎসা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র এবং আয়োজকদের সমন্বয়হীনতাকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।
পরিশেষে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে ছবি কখনও মিথ্যা বলে না। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগের অন্তরালে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে, তা জনসাধারণের সামনে আনতেই তিনি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এই ধরণের চাপানউতোর কাম্য নয় বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তবে মুখ্যমন্ত্রী এদিন নিজের অবস্থানে অনড় থেকে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে রাজ্যকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ আলাদা।








