নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে কংগ্রেসের প্রস্তাবে সায় তৃণমূলের

সংসদের আসন্ন অধিবেশনে ভারতের নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বিরুদ্ধে অনাস্থা এবং অপসারণের দাবিতে সরব হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দলগুলো। সূত্রের খবর, কংগ্রেসের নেতৃত্বে যে নতুন প্রস্তাব আনা হতে চলেছে, তাতে সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দল হিসেবে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে কৌশলগত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সংসদে সরব হতে চাইছে কংগ্রেস। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সিইসির বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আনার নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা রক্ষা করার দাবিতে তারা জোটবদ্ধ লড়াইয়ে শামিল হতে প্রস্তুত।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস লাগাতার সরব। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কাজের পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক দিক নিয়ে তৃণমূল যে বিরোধী শিবিরের সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, তা এই সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ সময় ধরে যে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে আসছেন, সেই ধারাই বজায় রেখে তৃণমূল সংসদীয় ক্ষেত্রেও নিজেদের অবস্থানের কথা তুলে ধরতে চাইছে।

সংসদের অন্দরে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় বড় ধরনের উত্তেজনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো মনে করছে, সিইসির বিরুদ্ধে আনা এই প্রস্তাব কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার স্বার্থে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে তৃণমূল সাংসদদের এই বিষয়ে সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতার কথায়, “আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। সেই লক্ষ্যে যদি কোনো প্রস্তাব আনা হয়, তবে আমরা অবশ্যই তাকে সমর্থন করব।”

তবে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো বিশদ তথ্য বা প্রস্তাবের খসড়া সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো নথি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। প্রস্তাবটি সংসদে কখন উত্থাপন করা হবে এবং এর ফলে সরকারি দল অর্থাৎ বিজেপির পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে, বর্তমানে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় এই ধরনের প্রস্তাব কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি তোলার মতো বড় সিদ্ধান্ত এর আগে খুব কমই দেখা গিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ বা বিশদ কৌশলগত নথিপত্র আমাদের কাছে উপলব্ধ নেই। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে সংসদীয় লড়াই যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা আরও জোরালো করার বার্তাও দিতে চাইছে। একই সঙ্গে, বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই প্রয়াস কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তৃণমূলের এই অবস্থান বদল বা নতুন করে এই ইস্যুতে সক্রিয়তা রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী ঐক্যের স্বার্থে যে তৃণমূল কোনো আপস করতে নারাজ, তা এই পদক্ষেপ থেকেই পরিষ্কার। নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই নতুন বিতর্ক আগামী দিনে সংসদের অধিবেশন চলাকালীন বড় ধরনের হইচই যে তৈরি করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।