‘কাটমানি’ রুখতে হেল্পলাইন চালু শুভেন্দু অধিকারীর, কড়া হুঁশিয়ারি

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যজুড়ে সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘কাটমানি’ বা ঘুষের লেনদেন বন্ধ করতে একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছেন। মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতার কার্যালয় থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, রাজ্যের সাধারণ মানুষ যদি কোনো সরকারি প্রকল্প বা পরিষেবা পেতে গিয়ে ঘুষ দিতে বাধ্য হন, তবে তারা সরাসরি এই হেল্পলাইন নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন। শুভেন্দুর দাবি, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন স্তরে যে পরিমাণ দুর্নীতির শিকড় গেড়েছে, তা উপড়ে ফেলার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হেল্পলাইন চালুর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, রাজ্যের সাধারণ মানুষকে পদে পদে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। আবাস যোজনা থেকে শুরু করে বার্ধক্য ভাতা কিংবা মিউটেশন—সবক্ষেত্রেই কাটমানি ছাড়া কাজ হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হতে দেওয়া যায় না। যারা সরকারি বেতনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা তোলার অভ্যেস করেছেন, তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে আসা অভিযোগগুলি তথ্য ও প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পথ প্রশস্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

বিরোধী দলনেতা আরও জানিয়েছেন, তিনি এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য একটি বিশেষ নজরদারি দল তৈরি করেছেন। এই দল সরাসরি সাধারণ মানুষের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে। পাশাপাশি, পুলিশের বিভিন্ন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি সরব হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা বর্তমানে শাসকদলের রাজনৈতিক স্বার্থপূরণের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং যদি কোনো পুলিশ আধিকারিক কোনো রাজনৈতিক নেতার হয়ে কাজ করে দুর্নীতিতে মদত দেন, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই হেল্পলাইন নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করা হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রীরা দাবি করেছেন, এটি স্রেফ রাজনৈতিক চমক এবং বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা। তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, সরকারি স্তরে দুর্নীতি রুখতে সরকার আগেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ করেছে। বিরোধী দলনেতার এই হেল্পলাইন অসাংবিধানিক বলেও তারা দাবি করেছেন। তবে বিরোধী দলনেতা তার সিদ্ধান্তে অনড়। তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগকারীদের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং কোনো অবস্থাতেই যাতে তাদের ওপর কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না নেওয়া হয়, সেই বিষয়ে নজর রাখা হবে।

হেল্পলাইন নম্বরের প্রচারের জন্য রাজ্যজুড়ে পোস্টার এবং লিফলেট বিলি করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিরোধী শিবিরের। তবে এই ধরনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাদের মতে, সরকারি পরিকাঠামোর বাইরে কোনো রাজনৈতিক দলের হেল্পলাইন কতদূর সরকারি দুর্নীতি ধরতে পারবে, তা বড় প্রশ্ন। এর আগেও ‘কাটমানি’ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়েছে, কিন্তু তার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা। শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন কৌশল আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এই হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যদি কোনো গুরুতর অভিযোগের সত্যতা মেলে, তবে তা আইনি লড়াইয়ের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভয় দেখিয়ে বা কাটমানি নিয়ে আর বেশিদিন দুর্নীতি চালানো যাবে না। প্রশাসনকে স্বচ্ছ করার তাগিদে এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ কতখানি সফল হয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী কয়েক সপ্তাহ। এছাড়া, এই হেল্পলাইনের কার্যকারিতা এবং অভিযোগের নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে, সেই বিস্তারিত তথ্য এখনও সংবাদমাধ্যমের কাছে সেভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। আমরা এই বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছি।