কলকাতা: রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে কলকাতায় পৌঁছালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC)। তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)। এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ এবং ভোটার তালিকার কাজ খতিয়ে দেখা। বিমানবন্দর চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিইও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন।
সিইও জানান যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে যে সমস্ত ভোটারদের নাম বা তথ্য বর্তমানে বিচারধীন বা ‘অ্যাডজুডিকেশন’ পর্যায়ে রয়েছে, তাঁদের জন্য কমিশন আলাদা ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই সমস্ত নাগরিকদের নাম স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হবে। এর ফলে ভোটারদের অধিকার সুনিশ্চিত হবে এবং স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও অভিযোগ বা আপত্তির পাহাড় জমতে দিতে রাজি নয় নির্বাচন ভবন। সেই কারণেই এই সাপ্লিমেন্টারি লিস্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিইসি-র এই সফর চলাকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানেও ভোটার তালিকার এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করাই এখন তাঁদের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই সিইসি এবং সিইও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। সেখানে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি প্রতিটি বুথে ভোটারদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ভোটার তালিকায় যাতে কোনও ভুয়ো নাম না থাকে এবং যোগ্য প্রার্থীরা যাতে বাদ না পড়েন, সেই দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ বা সাধারণ মানুষের সমস্যা মেটাতেই এই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পথে হাঁটছে কমিশন। এর মাধ্যমে বিচারধীন ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ আরও গতি পাবে। জেলাস্তরের আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, কমিশনের এই সক্রিয়তা এটাই প্রমাণ করে যে তারা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর। ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন কমিশনের প্রধান অ্যাজেন্ডা। আগামী কয়েক দিনে এই সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।








