যান্ত্রিক বিভ্রাটে অচল পাম্প, থনথনিয়া অঞ্চলে জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা

কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম এলাকা থনথনিয়া। বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস মাথায় নিয়ে যখন শহরবাসী চিন্তিত, তখনই সামনে এল এক উদ্বেগজনক খবর। জানা গিয়েছে, এই এলাকায় জল নিকাশি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পাম্প যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হঠাৎই অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে ফের একবার থনথনিয়া সহ পার্শ্ববর্তী নিচু এলাকাগুলিতে জল জমার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। বর্ষার মরসুমে এই ধরনের যান্ত্রিক বিভ্রাট স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটিটি চিহ্নিত হওয়ার পরই মেরামতির কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে পাম্পটি আচমকা বিকল হয়ে গেল, তা নিয়ে সঠিক তথ্যের অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দাবি, দ্রুততার সঙ্গে পাম্পটি সচল করার চেষ্টা চলছে যাতে ভারী বৃষ্টি হলে জল দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে। বিগত দিনেও থনথনিয়া এলাকায় জল জমার সমস্যা নিয়ে বারবার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এবার পাম্প বিকল হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার রাজ্যের নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে জোর দেওয়ার কথা বললেও, বারবার এই ধরনের ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠছে। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শহরের পরিকাঠামো ভেঙে পড়ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার পর থেকে নিকাশি ব্যবস্থার মানোন্নয়নের দাবি করা হলেও, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, সঠিক পর্যবেক্ষণের অভাবে এই বিভ্রাট নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই থনথনিয়া মোড় এবং তার আশেপাশের রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে যায়, যার ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এর ওপর পাম্প অকেজো হয়ে থাকাটা যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। স্কুল পড়ুয়া থেকে অফিস যাত্রী, সকলেই এই পরিস্থিতিতে দুর্ভোগে পড়েন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাস্তা দিয়ে জল বইলে দোকানের ভেতর জল ঢুকে প্রচুর ক্ষতি হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পাম্প সচল করার জন্য যে তৎপরতা প্রয়োজন, তা সঠিক সময়ে দেখা যায় না।

কলকাতা পুরসভা অবশ্য জানিয়েছে যে তারা পরিস্থিতিটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাম্পের মেরামতির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ দ্রুত সংগ্রহ করা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তাই কোনোভাবেই যাতে জল না জমে, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও ভাবা হচ্ছে বলে খবর। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, শুধুমাত্র পাম্পের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে শহরের নিকাশি নালাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। শহরের বুকে এই ধরনের জল জমার সমস্যা সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, পাম্পটি কবে নাগাদ সম্পূর্ণভাবে সচল হবে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা প্রশাসনের তরফে দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের একাংশ জানিয়েছেন, ভেতরে কোনো টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে অস্থায়ী পাম্প বসানোর কোনো পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। শহর কলকাতার নিকাশি সমস্যা নতুন নয়, কিন্তু প্রতি বছর বর্ষার মরসুমে এই সমস্যা বারবার ফিরে আসায় প্রশাসনের দক্ষতা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।

ইতিমধ্যেই স্থানীয় স্তরে প্রতিবাদ দানা বাঁধছে। বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। পুজোর আগে কলকাতার রাস্তাঘাট এবং নিকাশি ব্যবস্থার এই বেহাল দশা কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। এখন দেখার বিষয়, পুরসভার উদ্যোগে পাম্পটি কত দ্রুত সচল হয় এবং শহরবাসী বড় ধরনের জলপ্লাবনের হাত থেকে মুক্তি পান কি না। পরিস্থিতির ওপর সর্বক্ষণ নজর রাখছে পুরসভার কন্ট্রোল রুম।