কলকাতা: নিউ টাউনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি সাধারণ ১ বিএইচকে ফ্ল্যাট যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের জাল বিস্তারের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধৃত দুই সন্দেহভাজন জঙ্গি এই এলাকায় অত্যন্ত নিভৃতে দিন যাপন করছিল। তাদের আচার-আচরণে এমন কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল না যা প্রতিবেশীদের মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে। কলকাতার উপকণ্ঠে এই উপনগরীটি বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের ভিড়ে ঠাসা, আর এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়েছিল চক্রটি। এই ঘটনার তদন্তে নেমে এসটিএফ এবং এনআইএ গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, জঙ্গিরা গত কয়েক মাস ধরে এই ফ্ল্যাটটিতে অবস্থান করছিল। তারা ভুয়া নথি ব্যবহার করে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল কিনা, সেই বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিউ টাউনের মতো আধুনিক নগরীতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও কীভাবে তারা এত সময় গা ঢাকা দিয়ে রইল, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। স্থানীয় আবাসন কমিটির সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা কারও সাথে বিশেষ মেলামেশা করত না। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা বা যাতায়াতের সময়ও তারা সাধারণ মানুষের মতোই আচরণ করত। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এটি ছিল তাদের ‘লো প্রোফাইল’ বজায় রাখার একটি সুচিন্তিত কৌশল। নিউ টাউনের এই আস্তানাটি থেকে বেশ কিছু ডিজিটাল নথি এবং ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে যা থেকে পরবর্তী বড় ধরনের কোনো নাশকতার পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলছে। তদন্তের খাতিরে পুলিশ এখনই সমস্ত তথ্য প্রকাশ করছে না, তবে গোয়েন্দারা নিশ্চিত যে এই চক্রের সাথে আরও অনেকের যোগাযোগ রয়েছে। এই গ্রেফতারির পর শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে নিউ টাউন এবং রাজারহাট এলাকার পিজি বা ভাড়াবাড়ির বাসিন্দাদের নথি যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় গতি আনা হয়েছে। পুলিশ স্থানীয়দের সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছে এবং কোনো অপরিচিত ব্যক্তির চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে সাথে সাথে স্থানীয় থানায় খবর দিতে বলেছে। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে জনবহুল শহরের ভেতরেই জঙ্গিরা কীভাবে নিজেদের স্লিপার সেল তৈরি করে রাখছে। গোয়েন্দারা এখন জানার চেষ্টা করছেন যে এই দুই জঙ্গির সাথে আন্তঃসীমান্ত কোনো সংগঠনের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কিনা। ফ্ল্যাট মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে এবং তিনি পুলিশি ভেরিফিকেশন করিয়েছিলেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিউ টাউন এলাকার প্রতিটি ফ্ল্যাট এবং আবাসন এখন নজরদারির আওতায়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী তদন্ত হতে চলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। শহরের ভেতরে জঙ্গি আস্তানার হদিস মেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় শহরগুলোতে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর আইন এবং নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। বর্তমানে এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








