এনইপি কার্যকর করতে এনসিইআরটি-র সঙ্গে মউ সই করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি বা এনইপি (NEP) কার্যকর করার লক্ষ্যে এবার কেন্দ্রীয় সংস্থা এনসিইআরটি (NCERT)-র সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মউ বা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির রূপরেখা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হলো, যা আগামী দিনে রাজ্যের স্কুল স্তরের পঠনপাঠনে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যে এখন বিজেপি ক্ষমতায় এবং বিরোধী দল হিসেবে টিএমসি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার মনে করছে, জাতীয় স্তরের শিক্ষানীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ আরও সুনিশ্চিত হবে। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এই শিক্ষানীতি নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বর্তমান প্রশাসন। শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে রাজ্যের পাঠ্যক্রমে আধুনিকীকরণ আনা হবে এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে।

তবে এই চুক্তি ঠিক কবে স্বাক্ষরিত হবে এবং এর প্রতিটি শর্ত কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি। রাজ্য সরকারের দাবি, এনসিইআরটি-র সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের ফলে রাজ্যের শিক্ষার্থীরা জাতীয় স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারবে। গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে যে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, এই নতুন পদক্ষেপ সেই বিতর্ক নিরসনে কতটা সফল হয়, তা এখন দেখার বিষয়।

শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশের মতে, জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের এই সদিচ্ছা শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাজ্যের পাঠ্যবই এবং পঠন-পাঠন পদ্ধতিতে যে ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল, তা এনসিইআরটি-র কারিগরি সহায়তায় খুব দ্রুত বাস্তবায়িত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজিটাল শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের উপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমান বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা কাঠামোয় বিভিন্ন সংস্কারের দাবি উঠছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দিচ্ছে। বিরোধী দল টিএমসি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেও সরকারি মহলের দাবি, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে পড়ুয়াদের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই শিক্ষাদপ্তর এবং এনসিইআরটি-র আধিকারিকদের মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে চূড়ান্ত মউ-এর বয়ান এবং কার্যপ্রণালী নিয়ে আলোচনা হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই রাজ্যের সরকারি এবং সরকার পোষিত বিদ্যালয়গুলিতে নতুন শিক্ষানীতির প্রতিফলন দেখা যাবে। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং পরিকাঠামোগত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলও বরাদ্দ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

তবে, এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সরকারিভাবে লভ্য নয়। কোন কোন স্তরে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে এবং তার প্রভাব ঠিক কতখানি পড়বে, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। অভিভাবক মহলেও এই খবর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে নতুন ব্যবস্থার আশা, অন্যদিকে তার রূপায়ণ নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামহলে এখন নতুন শিক্ষানীতি নিয়েই চর্চা তুঙ্গে।