Zimbabwe Fans light up Arun Jaitley Stadium with Castle Corner energy

Zimbabwe Fans light up Arun Jaitley Stadium with Castle Corner energy
Zimbabwe Fans light up Arun Jaitley Stadium with Castle Corner energy

রবিবার দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের গৌতম গম্ভীর স্ট্যান্ড এক অদ্ভুত উন্মাদনার সাক্ষী থাকল। সাধারণ কোনো ঘরোয়া ম্যাচ নয়, বরং জিম্বাবোয়ের একদল প্রাণোচ্ছল সমর্থকের উপস্থিতিতে গ্যালারির পরিবেশ যেন সম্পূর্ণ বদলে গেল। এই সমর্থক গোষ্ঠীটি ‘ক্যাসেল কর্নার’ নামে ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিত। মূলত শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে যখন জিম্বাবোয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল, তখন থেকেই এই সমর্থকদের জয়গান শুরু হয়। সেই সময় থেকে তাঁদের দলগত সংহতি এবং গ্যালারিতে অবিরাম উৎসাহ প্রদানের ভঙ্গি নজর কেড়েছে সকলের। মূলত ছয়জনের একটি ছোট দল হলেও তাঁদের আওয়াজ এবং উদ্দীপনা পুরো স্টেডিয়ামকে মাতিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট। শ্রীলঙ্কায় জিম্বাবোয়ে দলের অভাবনীয় সাফল্যের পর এই সমর্থকদের থাকার মেয়াদ বৃদ্ধি পায়। জানা গিয়েছে, জিম্বাবোয়ে দলের এই অবিশ্বাস্য দৌড় এবং এক বিশেষ পৃষ্ঠপোষকের আর্থিক সহায়তায় তাঁরা দিল্লিতেও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে পেরেছেন। ভারতের রাজধানীর এই বিখ্যাত ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গৌতম গম্ভীর স্ট্যান্ডে বসে তাঁরা যেভাবে জিম্বাবোয়ে দলের সমর্থনে চিৎকার করলেন এবং গান গাইলেন, তা উপস্থিত স্থানীয় দর্শকদের কাছেও ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা। সাধারণত বড় টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের দেখা মেলাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু জিম্বাবোয়ের এই সমর্থকদের মধ্যে যে আবেগ এবং ক্রিকেট প্রেম লক্ষ্য করা গিয়েছে, তা সত্যিই বিরল। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার এই প্রতিবেশী দেশটির ক্রিকেট পরিকাঠামো যখন বারবার কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে, তখন এই একনিষ্ঠ ভক্তরাই জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। দিল্লির তপ্ত দুপুরেও তাঁদের এই অবিরাম উৎসাহ প্রদান প্রমাণ করে দিল যে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা কোনো ভৌগোলিক সীমানা মানে না। এই ছয়জন সমর্থক শুধু গান বা বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তাঁদের শারীরিক ভাষা এবং উল্লাস গ্যালারির সাধারণ দর্শকদেরও খেলার প্রতি আরও বেশি মনোযোগী করে তুলেছিল। শ্রীলঙ্কায় তাঁরা যখন অস্ট্রেলিয়া এবং স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে হারানোর সাক্ষী হয়েছিলেন, সেই সময় থেকেই তাঁদের এই যাত্রার শুরু। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ‘ক্যাসেল কর্নার’ গোষ্ঠীটি এখন জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের ইতিহাসে বিদেশের কোনো ছোট সমর্থক দলের এমন প্রভাব খুব একটা দেখা যায় না। জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের এই জয়যাত্রায় তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দিল্লির মাঠে উপস্থিত স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরাও এই বিদেশি সমর্থকদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আনন্দ করেছেন। সামগ্রিকভাবে রবিবার গৌতম গম্ভীর স্ট্যান্ডটি হয়ে উঠেছিল জিম্বাবোয়ের ক্রিকেটের এক টুকরো প্রতিচ্ছবি। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের সমর্থকদের উপস্থিতি যে কোনো দলের মনোবল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যেখানে স্নায়ুর লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে গ্যালারি থেকে ভেসে আসা এই চিৎকার খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে বড় ভূমিকা পালন করে। জিম্বাবোয়ের এই সমর্থকদের এই সফর এবং দলের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন নজির সৃষ্টি করল। অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের এই পরিবেশ আবারও প্রমাণ করল যে ক্রিকেট মাঠের আসল প্রাণভোমরা হলেন তার দর্শকরাই।