কলকাতার বুকে ফের রাজনীতির কালো ছায়া। শনিবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, টানা চার ঘণ্টা ধরে দক্ষিণ কলকাতার সাতটি ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএমের দলীয় কার্যালয় লক্ষ্য করে লাগাতার হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দিনের বেলায় প্রকাশ্য রাস্তায় এমন হিংসাত্মক ঘটনায় শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হঠাৎই কিছু দুষ্কৃতী দল সশস্ত্র অবস্থায় দক্ষিণ কলকাতার নির্দিষ্ট সাতটি ওয়ার্ডে চড়াও হয়। এরপর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএমের স্থানীয় দলীয় কার্যালয়গুলিকে লক্ষ্য করে ভাঙচুর চালানো হয়। বেশ কিছু জায়গায় আসবাবপত্র ভাঙা হয়েছে এবং নথিপত্র নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কার্যালয়গুলিকে নিশানা করার এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বর্তমান শাসক দল বিজেপি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে এই ধরনের অগণতান্ত্রিক ও হিংসাত্মক পথের আশ্রয় নিচ্ছে। শাসক দলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পুলিশকে নিষ্ক্রিয় রেখে এই তাণ্ডব চালিয়েছে বলে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ। তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সিপিএমের পক্ষ থেকেও এই হামলার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। বাম নেতাদের অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতায় তাদের সংগঠন দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও তৃণমূল এবং সিপিএম দুই দলই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে, তবে দীর্ঘ চার ঘণ্টা ধরে চলা এই তাণ্ডবে কোনো পক্ষই পুলিশি সুরক্ষার বিশেষ সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে হামলার নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে, সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, যারা এই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখন বড়োসড়ো প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। দিনের আলোয় শহরের প্রাণকেন্দ্রে কীভাবে চার ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চলল, তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এলাকাগুলিতে বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় থাকায় দক্ষিণ কলকাতার ওই সাতটি ওয়ার্ডে এখনও চাপা আতঙ্ক রয়েছে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের চলাচলও কমেছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের সংঘাত নতুন নয়। তবে দক্ষিণ কলকাতার মতো জনবহুল এলাকায় টানা চার ঘণ্টা ধরে রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের কড়া নজরদারিতে রয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের স্বার্থে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, বরং একে অপরকে কাঠগড়ায় তুলছে। ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে ওয়াকিবহাল মহল।








