উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে সিপিএমের একটি দলীয় সভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, সভা চলাকালীন হঠাৎই একদল দুষ্কৃতী সভাস্থলে চড়াও হয় এবং ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সরাসরি শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
জানা গিয়েছে, গতকাল স্থানীয় একটি ময়দানে সিপিএমের তরফে একটি ছোট জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার কাজ যখন প্রায় শেষের দিকে, ঠিক সেই সময় একদল যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীরা মঞ্চে উঠে মাইক ও সাউন্ড বক্স ভেঙে ফেলে। চেয়ার ছুড়ে মারার পাশাপাশি উপস্থিত কর্মীদের ভয় দেখানোরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। এই আকস্মিক হামলায় কয়েকজন সিপিএম কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। দলের এক শীর্ষ স্থানীয় নেতা বলেন, “বিজেপি রাজ্যে নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করার জন্য ক্রমাগত বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। বিরাটির এই ঘটনা সেই রাজনৈতিক সন্ত্রাসেরই বহিঃপ্রকাশ। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।” দলীয় সূত্রের খবর, ঘটনার পর এলাকায় সিপিএম কর্মীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ প্রদর্শন করেন। পুলিশকে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, বিরাটির এই ঘটনায় বিজেপির জেলা নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তাঁরা জানিয়েছেন, এই হামলার সঙ্গে তাঁদের দলের দূরতম সম্পর্কও নেই। উল্টে বিজেপির দাবি, সিপিএম এখন রাজ্যে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে, তাই নিজেদের জনপ্রিয়তা ফেরাতে এই ধরনের নাটক সাজাচ্ছে। তাদের মতে, এটি সিপিএমের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হতে পারে। বিজেপির স্থানীয় মুখপাত্র বলেন, “নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতিবারই বিজেপির নাম জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বিরোধীরা। পুলিশের তদন্তেই সত্য বেরিয়ে আসবে।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। অপরদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে বিরোধী আসনে বসেছে। রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে যখন বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে, ঠিক তখনই বিরাটির এই ভাঙচুরের ঘটনা বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্ররোচনা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বিরাটির সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। সিপিএমের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, ঘটনার সুবিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর এমন রেষারেষিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি বিবৃতি দেননি। বিরাটির এই হামলার জেরে স্থানীয় রাজনীতিতে আগামী দিনে উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত তথ্যের জোগান দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলা রুজু করা হয়েছে তবে কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।








