২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা তুঙ্গে থাকলেও টিকিটের দাম নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে আয়োজিত হতে চলা এই মেগা ইভেন্টের টিকিটের মূল্য সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দেখা যাচ্ছে যে, একটি উদ্বোধনী ম্যাচের সাধারণ টিকিটের দাম প্রায় ৯০০ ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৫,০০০ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। তবে এখানেই শেষ নয়, ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম যা শোনা যাচ্ছে তা শুনে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় ফুটবল ভক্তদের। রিপোর্ট অনুযায়ী, ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম ৮,০০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। ফিফার পক্ষ থেকে লক্ষ লক্ষ টিকিট বাজারে ছাড়ার কথা বলা হলেও, ডাইনামিক প্রাইসিং বা চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দাম পরিবর্তনের পদ্ধতির কারণে সাধারণ সমর্থকরা বিপাকে পড়েছেন। বিপুল চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে সেকেন্ডারি মার্কেট বা রিসেল মার্কেটে টিকিটের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে এই রিসেল প্রাইস মূল দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রাখা হচ্ছে। এছাড়া ফুটবল প্রেমীদের জন্য শুধুমাত্র টিকিটের খরচই শেষ কথা নয়। উত্তর আমেরিকার স্টেডিয়ামগুলিতে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে, তা-ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পার্কিং ফি এতটাই চড়া যে সেটিও একটি বড় মাপের খরচের বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে দর্শকদের ওপর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সম্ভবত এটিই হতে চলেছে সবথেকে ব্যয়বহুল টুর্নামেন্ট। আয়োজক দেশ হিসেবে আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডার স্টেডিয়ামগুলিতে দর্শকাসন পূর্ণ করার লক্ষ্য থাকলেও, এই অত্যাধিক মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ফুটবল প্রেমীদের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার পথে বড় অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নজর এখন এই ডাইনামিক প্রাইসিংয়ের ওপর থাকলেও, বাস্তব চিত্র বলছে পকেটে মোটা টাকা না থাকলে গ্যালারিতে বসে মেসি-রোনাল্ডোদের উত্তরসূরিদের লড়াই দেখা এবার অত্যন্ত কঠিন হবে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকিটের এই অতিরিক্ত দামের ফলে সাধারণ দর্শকদের পরিবর্তে কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের ভিড় বেশি দেখা যেতে পারে স্টেডিয়ামে। সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখন সাধারণ মানুষের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অস্বাভাবিক খরচ। বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ নিতে গেলে এখন থেকেই সমর্থকদের বড় অঙ্কের সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। উত্তর আমেরিকার ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকিটের দাম যে সাধারণের পকেটে টান দেবে, তা বলাই বাহুল্য।








