কলকাতা: কলকাতা শহরের রাজপথে অবৈধ পার্কিং এবং অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে মধ্য কলকাতার ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে পার্কিং মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ। সম্প্রতি টাইমস অফ ইন্ডিয়া এই বিষয়ে একটি তথ্যবহুল অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় যে নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করছে একটি নির্দিষ্ট পার্কিং এজেন্সি। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের উচ্চমহলে শোরগোল পড়ে যায়। আজ কলকাতা পৌরসংস্থা বা কেএমসি (KMC) পার্কিং বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওই অভিযুক্ত সংস্থাকে শীঘ্রই কড়া আইনি নোটিশ বা ‘শোকজ’ পাঠানো হচ্ছে। কেএমসির এক পদস্থ আধিকারিক জানান, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তারা নিজস্ব তদন্ত চালিয়েছেন এবং প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সংস্থার লাইসেন্স বাতিল হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। শহরের ব্যস্ততম মোড় এবং বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে পার্কিং ফি নির্ধারণ করে দেয় পুরসভা। বাইক, ছোট গাড়ি এবং বড় গাড়ির জন্য আলাদা আলাদা রেট চার্ট থাকলেও অনেক সময় তা মানা হয় না। সেন্ট্রাল কলকাতার পার্কিং স্লটগুলোতে ডিজিটাল পেমেন্টের পরিবর্তে নগদ টাকা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যাতে আয়ের সঠিক হিসাব আড়ালে রাখা যায়। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল কীভাবে কুপন ছাড়াই টাকা আদায় করা হচ্ছিল এবং প্রতিবাদ করলে চালকদের হেনস্থা করা হতো। বর্তমান নির্দেশ অনুযায়ী, পার্কিং এজেন্সিকে লিখিত জবাব দিতে হবে কেন তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। যদি উত্তর সন্তোষজনক না হয়, তবে তাদের কাজের চুক্তি বাতিল করা হবে এবং ব্ল্যাকলিস্টেড করা হবে। মেয়রের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, শহরের কোনো জায়গাতেই পার্কিং নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে দেওয়া হবে না। এই ঘটনার পর শহরজুড়ে অন্যান্য পার্কিং জোনগুলোতেও নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেএমসি। প্রতিটি পার্কিং লটে রেট চার্ট প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একইসাথে ই-পার্কিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের প্রতি প্রশাসনের বার্তা, যদি কেউ অতিরিক্ত ফি দাবি করে তবে সরাসরি পুরসভার কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ জানাতে হবে। মধ্য কলকাতার এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, কারণ সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সাথে প্রভাবশালী মহলের যোগসূত্র নিয়ে কানাঘুষো রয়েছে। তবে পুরসভা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে অপরাধ যেই করুক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই কড়া পদক্ষেপের ফলে শহরের ট্রাফিক এবং পার্কিং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এই বিশেষ রিপোর্ট প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা কাটাতে বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পার্কিং এজেন্সির জবাব পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে কেএমসি।







