নয়াদিল্লি: ভারতের জ্বালানি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল বা ই২০ (E20) জ্বালানি বিক্রয় বাধ্যতামূলক করতে চলেছে। একই সঙ্গে পেট্রোলের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এর রিসার্চ অকটেন নম্বর বা আরওএন (RON) সর্বনিম্ন ৯৫ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানিকৃত খনিজ তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এই বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের পর থেকে সমস্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে এই নতুন মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। তবে দেশের বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং কিছু বিশেষ প্রতিকূলতার কথা মাথায় রেখে সরকার নমনীয়তার পথও খোলা রেখেছে। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে যে বিশেষ পরিস্থিতি, নির্দিষ্ট কোনো দুর্গম অঞ্চল কিংবা অত্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য এই নিয়মের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ভারতের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে ৯১ আরওএন মাত্রার পেট্রোল পাওয়া যায়। কিন্তু আধুনিক ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য ৯৫ আরওএন অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উচ্চমানের এই জ্বালানি ইঞ্জিনের নকিং কমায় এবং গাড়ির মাইলেজ উন্নত করতে সাহায্য করে। ইথানল মিশ্রণের ফলে কৃষিখাতেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চিনি কলগুলি থেকে উপজাত হিসেবে পাওয়া ইথানল বিক্রি করে কৃষকরা সরাসরি লাভবান হবেন। এতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। নীতি আয়োগের রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে সারা দেশে ই২০ জ্বালানি ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছিল, যা এখন দ্রুত বাস্তবায়নের পথে। তেল সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই তাদের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে। স্টোরেজ ট্যাঙ্ক থেকে শুরু করে ডিসপেনসিং ইউনিট—সবই এখন নতুন মানদণ্ডের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকেও তাদের নতুন মডেলগুলিতে ই২০ জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী ইঞ্জিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পুরনো গাড়িগুলির ক্ষেত্রে এই জ্বালানি ব্যবহারের প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছু সংশয় রয়েছে। যদিও সরকার আশ্বস্ত করেছে যে ধাপে ধাপে রূপান্তরের ফলে বড় কোনো যান্ত্রিক সমস্যার সম্ভাবনা নেই। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা বা উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো দুর্গম অঞ্চলে যেখানে সরবরাহ ব্যবস্থা অনেক সময় ব্যাহত হয়, সেখানে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকছে। এই কৌশলগত পদক্ষেপ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতা থেকে ভারতীয় অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতে অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত ইথানল একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি অটোমোবাইল শিল্পেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যাতে সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি না হয় এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি সফলভাবে কার্যকর করা যায়।








