নয়াদিল্লি: ভারতের বৈদেশিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পূর্ববর্তী ইসরায়েল সফর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘এপস্টাইন ফাইলস’ থেকে পাওয়া কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা নিয়ে সরব হয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকারের বিদেশনীতি দেশের স্বার্থের চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। কংগ্রেসের সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রবীণ নেতা পবন খেরা আরও বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি প্রয়াত মার্কিন অর্থলগ্নিকারী এবং দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের ইমেল এবং নথিপত্র উদ্ধৃত করে দাবি করেন যে, ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনের পেছনে বিতর্কিত ব্যক্তিদের ভূমিকা থাকতে পারে। পবন খেরা সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, এপস্টাইন ফাইলসে এমন কিছু ইঙ্গিত রয়েছে যা অত্যন্ত অস্বস্তিকর। সরকার কেন এই বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধী এই ইস্যুটিকে সামনে এনে আন্তর্জাতিক মহলে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিকে চ্যালেঞ্জ করতে চাইছেন। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তিগত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে শর্তাবলি আরোপ করা হয়েছে, তাতে ভারতের স্থানীয় শিল্প কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। রাহুল গান্ধীর মতে, প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফর ছিল নিছকই লোকদেখানো এবং এর আড়ালে বড় কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন লুকিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ভারতের বিদেশনীতি সবসময়ই জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। কিন্তু কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এপস্টাইন ফাইলের মতো আন্তর্জাতিক নথিতে ভারতের নাম জড়িয়ে যাওয়া দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আগে কখনো এভাবে প্রশ্ন ওঠেনি। তবে এপস্টাইনের মতো একজন অপরাধীর নামের সাথে এই সম্পর্কের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার দাবি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করেছেন যে, সংসদে এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি জানানো হবে। বাণিজ্য চুক্তির প্রতিটি ধারা জনগণের সামনে আনা উচিত বলে তিনি মনে করেন। পবন খেরা যোগ করেন যে, জেফরি এপস্টাইনের সাথে যুক্ত বিভিন্ন ফাউন্ডেশন কীভাবে ভারতের নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করেছে তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এই পুরো ঘটনাটি এখন দিল্লি থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত রাজনৈতিক আলোচনার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভারতের সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আড়ালে কি সত্যিই কোনো অন্ধকার দিক লুকিয়ে আছে? কংগ্রেস এই লড়াইকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই প্রতিটি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দাবি করেছে। মোদী সরকারের বৈদেশিক কূটনীতি এখন বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।








