ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কৃষকদের সতর্ক করলেন ভগবন্ত মান

Bhagwant Mann Flags Risk To Farmers From India-US Trade Deal

নয়াদিল্লি: পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সম্প্রতি ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থকে ক্ষুন্ন করতে পারে এবং কৃষি অর্থনীতিতে বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। মান মনে করেন, মার্কিন কৃষি পণ্যের ওপর যদি ছাড় দেওয়া হয় বা ভারতের বাজারে তাদের প্রবেশ সহজ করা হয়, তবে দেশীয় কৃষকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন।

মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের মতে, আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলি তাদের কৃষকদের বিপুল পরিমাণ ভরতুকি বা সাবসিডি প্রদান করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সেই দেশের কৃষি পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম থাকে। যদি এই পণ্যগুলি ভারতীয় বাজারে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রবেশ করে, তবে ভারতের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পাবেন না। বিশেষ করে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো কৃষিনির্ভর রাজ্যগুলির ওপর এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। কৃষকদের আর্থিক অবস্থা এতে আরও সংকটাপন্ন হতে পারে বলে তিনি দাবি করেছেন।

মান আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরণের বড় আকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির আগে রাজ্য সরকার এবং কৃষক সংগঠনগুলির সাথে আলোচনা করা একান্ত প্রয়োজন। কেন্দ্র সরকারের উচিত কৃষকদের জীবন-জীবিকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, কৃষিক্ষেত্র ভারতের মেরুদণ্ড এবং সেই মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার মতো কোনও সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। তিনি দেশের কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং এই ধরনের চুক্তির ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের কৃষিবাজারকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার কি পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় না থাকলে স্থানীয় চাষিরা উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মূলত সেই আশঙ্কার কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, বিদেশি কোম্পানিগুলিকে সুবিধা করে দিতে গিয়ে যেন দেশের অন্নদাতাদের স্বার্থকে বিসর্জন না দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখবে এবং কৃষকদের স্বার্থ বিরোধী কোনও পদক্ষেপ নেবে না বলেই আশা প্রকাশ করেছে পাঞ্জাব প্রশাসন। কৃষিপ্রধান রাজ্য হিসেবে পাঞ্জাব এই চুক্তির প্রতিটি দিক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।