Gangster Groom Arrested: বিয়ের মণ্ডপ থেকে গ্রেপ্তার কুখ্যাত গ্যাংস্টার

বিয়ের সানাই বাজছিল পূর্ণ উদ্যমে। দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজন এবং অতিথিদের ভিড়ে গমগম করছিল অনুষ্ঠান চত্বর। বরের সাজে আসরে বসেছিলেন ওই ব্যক্তি, যাঁকে দীর্ঘ দিন ধরে খুঁজছিল পুলিশ প্রশাসন। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঠিক বিয়ের মণ্ডপেই হানা দেয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান চলাকালীনই এই কুখ্যাত অপরাধীকে কবজায় নেয় তারা।

ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন চারদিকে হইচই পড়ে যায়। উৎসবের মেজাজ নিমেষের মধ্যে বিষাদে পরিণত হয়। পুলিশ যখন অভিযুক্ত বরকে হ্যান্ডকাফ পরাতে উদ্যত হয়, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন হবু কনে। তিনি পুলিশের পায়ে ধরে বারংবার মিনতি করতে থাকেন যাতে অন্তত বিয়ের শাশ্বত নিয়মগুলো শেষ করার সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি বারবার বলছিলেন যে একবার বিয়েটা সম্পূর্ণ হয়ে গেলে পুলিশ তাকে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু মাঝপথে এভাবে উৎসব পণ্ড না করার জন্য তিনি অনুনয় করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রুজু করা রয়েছে। প্রশাসনের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে ওই ব্যক্তি এই বিশেষ দিনটিতে মণ্ডপে উপস্থিত থাকবেন। সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি পুলিশ। অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে গণ্য করা হচ্ছিল। ফলে কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার সঙ্গেই এই অভিযান চালানো হয়।

কনের পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ চলে। তাঁদের দাবি ছিল, সামাজিক সম্মানের খাতিরে অন্তত কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা হোক। কিন্তু পুলিশ অফিসাররা সাফ জানিয়ে দেন যে একজন ফেরার অপরাধীকে এক মুহূর্তের জন্য ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। বিয়ের পিঁড়িতে বসা অবস্থাতেই তাঁকে টেনে তোলা হয় এবং দ্রুত পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর বিয়ের মণ্ডপে এক শ্মশান নীরবতা নেমে আসে। আমন্ত্রিত অতিথিরা আতঙ্কে এবং বিস্ময়ে বিয়ের আসর ত্যাগ করতে শুরু করেন।

আইনজীবীদের মতে, বিয়ের মণ্ডপ থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করা আইনিভাবে বৈধ যদি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ পরোয়ানা থাকে। এই ক্ষেত্রেও পুলিশ সমস্ত আইনি প্রটোকল মেনেই পদক্ষেপ করেছে। গ্যাংস্টার বরের এই গ্রেপ্তারি বর্তমানে ওই এলাকায় আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এই কড়া মনোভাব যেমন একদিকে প্রশংসিত হচ্ছে, অন্যদিকে এক তরুণীর জীবন এবং তাঁর ভবিষ্যতের করুণ পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক স্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে আদালতে পেশ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হবে।