কলকাতা: পাহাড়ের রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য কায়েম রাখতে এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিতে প্রথম থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ধরা দিচ্ছে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা বা বিজিপিএম। লোকসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিধানসভা স্তরে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া অনীত থাপার দল। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই তারা পাহাড়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসন—দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াংয়ে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা বিরোধীদের ওপর আগাম চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।
শিলিগুড়ির গোর্খা ভবনে আয়োজিত এই বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনে অনীত থাপা নিজে উপস্থিত থেকে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। কালিম্পং আসনের জন্য দলের পক্ষ থেকে আস্থা রাখা হয়েছে বর্তমান বিধায়ক রুডেন সাদা লেপচার ওপর। অন্যদিকে, কার্শিয়াং বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে অমর সিং রাইকে। দার্জিলিং সদর আসনের জন্য বিজিপিএম বেছে নিয়েছে পেমবা শেরপাকে। প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার সময় অনীত থাপা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পাহাড়ের উন্নয়ন এবং গোর্খাদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এই প্রার্থীরাই সবচেয়ে যোগ্য মুখ।
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও পাহাড়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে লোকাল ফ্যাক্টরকে গুরুত্ব দিতেই এই আগাম ঘোষণা। ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা গত কয়েক বছরে পাহাড়ের পঞ্চায়েত এবং জিটিএ (GTA) নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। সেই জয়ের ধারাকে বিধানসভা নির্বাচনেও বজায় রাখাই এখন অনীত থাপার প্রধান লক্ষ্য। বিরোধীদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করায় বিজিপিএম এই মুহূর্তে প্রচারের ময়দানে অনেকটা এগিয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কালিম্পংয়ের প্রার্থী রুডেন সাদা লেপচা ইতিপূর্বেও নিজের এলাকায় যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তাঁর কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দল আবারও ওই আসনটি দখলের স্বপ্ন দেখছে। কার্শিয়াংয়ের প্রার্থী অমর সিং রাই পাহাড়ের রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে পরিচিত। দার্জিলিং সদর আসনে পেমবা শেরপার ওপর দায়িত্ব দিয়ে বিজিপিএম মূলত তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে। অনীত থাপা দাবি করেছেন যে, পাহাড়ে শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখতে তাদের দলের বিকল্প নেই।
বর্তমানে পাহাড়ের রাজনীতিতে একাধিক সমীকরণ কাজ করছে। অজয় এডওয়ার্ডের হামরো পার্টি থেকে শুরু করে বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা—সবাই নিজেদের মাটি ফিরে পেতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে অনীত থাপার এই দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যত মাস্টারস্ট্রোক হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক বৃত্ত। প্রচারের প্রথম ধাপে এগিয়ে থাকাটা পাহাড়ের ভোটারদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বিরোধী শিবির এই চালের মোকাবিলায় কোন প্রার্থীকে ময়দানে নামায়।








