China’s Tibet build-up: তিব্বতে চীনের ‘দ্বৈত নীতি’: হিমালয় সীমান্তে ভারত-বিরোধী কৌশলগত সুরক্ষা-বলয় গড়ে তুলছে বেইজিং!

তিব্বত মালভূমিজুড়ে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘমেয়াদী ‘কৌশলগত বাফার’ বা সুরক্ষা-বলয় গড়ে তুলছে চীন। শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এক মূল্যায়নে বেইজিংয়ের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘাতের পর থেকে ‘লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল’ (LAC) বা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চীনের এই দ্বৈত কৌশল নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বেসামরিক প্রকল্পের আড়ালে সামরিক প্রস্তুতি
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতে চীনের সাম্প্রতিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কেবল সাধারণ বেসামরিক ব্যবহারের জন্য নয়। বেইজিং তাদের ‘সিভিল-মিলিটারি ফিউশন’ (বেসামরিক-সামরিক সমন্বয়) নীতির অধীনে কাজ করছে। তিব্বতজুড়ে তৈরি করা সড়ক, সুড়ঙ্গপথ, রেল যোগাযোগ, বিমানঘাঁটি, লজিস্টিক হাব এবং মডেল ‘সীমান্তবর্তী গ্রাম’ (Xiaokang villages)—এসবই এই কৌশলের অংশ। প্রয়োজনে এসব বেসামরিক অবকাঠামো মুহূর্তের মধ্যে পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র সামরিক রসদ, পরিবহণ এবং কৌশলগত সহযোগিতায় ব্যবহৃত হতে পারে।
দ্রুত সৈন্য মোতায়েন ও ভৌগোলিক সুবিধা
উচ্চ-উচ্চতার ভূখণ্ডে যুদ্ধের ক্ষেত্রে অবকাঠামোর ভূমিকা অত্যন্ত নির্ণায়ক। চীনের আধুনিক বিমানঘাঁটি এবং উন্নত মহাসড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় দ্রুত সৈন্য মোতায়েনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে চীন সীমান্ত সংকটের সময় অধিক কৌশলগত নমনীয়তা (operational flexibility) পাবে এবং ভূখণ্ডগত দাবিগুলোকে আরও জোরালো করতে পারবে।
ভারতের নজরদারি ও কড়া প্রতিরোধ
চীন সীমান্তে টানা সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লিও। হিমালয় সীমান্তজুড়ে ভারত তার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং নজরদারি ব্যবস্থা বহুগুণ জোরদার করেছে। বেইজিংয়ের যেকোনো নতুন অনুপ্রবেশের চেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে নস্যাৎ করতে এবং সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে ভারতের সেনাবাহিনী সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে মোতায়েন জোরদার করেছে।
যদিও LAC-তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সামরিক ও কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবুও তিব্বতে চীনের এই বিশাল অবকাঠামোগত বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে বেইজিং দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি চালিয়েই যাচ্ছে।