‘বাংলা মাথা নত করে না, ৪-৫ মে আপনি রাজ্যেই থাকুন’, আইপ্যাক কর্তার গ্রেপ্তারে শাহকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে। বাংলায় ভোটের বাকি আর মাত্র হাতেগোনা কয়েক দিন। ঠিক তার আগেই তৃণমূলের ভোট কৌশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর অন্যতম কর্ণধার ভিনেশ চন্দেলকে গ্রেপ্তার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, বাংলা ভয় পেতে জানে না।

নির্বাচনের মুখে ‘ভয়ের রাজনীতি’

গত ২ এপ্রিল ভিনেশ চন্দেলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির দাবি, তদন্তে অসহযোগিতা এবং বয়ানে অসঙ্গতি থাকার কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দেগে দিয়েছেন অভিষেক। নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি সরব হয়ে লেখেন:

“ভিনেশ চন্দেলের এই গ্রেপ্তারি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারণাকেই নাড়িয়ে দিচ্ছে। যেখানে গণতন্ত্রে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথা, সেখানে এই পদক্ষেপ ভয়ের বার্তা দিচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়।”

অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ

প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। তিনি লেখেন, “অমিত শাহ, আপনি ৪ ও ৫ মে বাংলাতেই থাকুন। সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার (নির্বাচন কমিশনার) এবং এজেন্সিকে রাখুন। বাংলা কখনও ভয় পায় না, মাথা নত করে না। এই মাটি প্রতিরোধের মাধ্যমে জবাব দিতে জানে।”

প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ কেবল ইডি নয়, তোপ দেগেছেন নির্বাচন কমিশন ও সিবিআই-এর মতো সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও। তাঁর অভিযোগ—

.কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি বিজেপির হয়ে কাজ করছে।

.নির্বাচন কমিশন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি চাপের মুখে নতি স্বীকার করছে।

.গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে।

ইডির পাল্টা যুক্তি

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি— তল্লাশি অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল ভিনেশকে। কিন্তু তাঁর উত্তরে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তদন্তের স্বার্থেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

ভোটের মুখে আইপ্যাক কর্তার এই গ্রেপ্তারি যে বাংলার রাজনৈতিক পারদ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, ৪ ও ৫ মে অভিষেকের এই চ্যালেঞ্জের পাল্টা কী রণকৌশল নেয় গেরুয়া শিবির।