উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে সাময়িক বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে অবস্থিত বালাসন নদীর ওপর নির্মিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে প্রশাসন। মূলত সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি মেরামতির কাজের উদ্দেশ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি শিলিগুড়ির সাথে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার সংযোগ রক্ষাকারী অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।
নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর রবিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত—অর্থাৎ টানা ১২ ঘণ্টা—এই সেতুর ওপর দিয়ে সর্বপ্রকার যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। স্থানীয় প্রশাসন ও পূর্ত দপ্তরের তরফে এই বিষয়ে আগাম বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যাতে শিলিগুড়ির সাধারণ বাসিন্দা এবং পর্যটকরা তাদের যাত্রাপথ আগেভাগেই পরিকল্পনা করে নিতে পারেন।
বালাসন নদীর এই বেইলি ব্রিজটি শিলিগুড়ির ভৌগোলিক অবস্থানের নিরিখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রুটে মালবাহী ভারী গাড়ি থেকে শুরু করে যাত্রীবাহী গণপরিবহন নিয়মিত চলাচল করে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারের ফলে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় সেতুর কাঠামোর ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে সেতুর আয়ু বৃদ্ধি ও নিরাপত্তার খাতিরেই এই জরুরি সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছে পূর্ত দপ্তর। তবে টানা ১২ ঘণ্টা সেতু বন্ধ থাকার ফলে ওই এলাকায় প্রবল যানজট তৈরি হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে বেশ ভোগান্তি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে যারা ওই নির্দিষ্ট দিনে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং কিংবা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াতের পরিকল্পনা করেছেন, তাদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও ছোট গাড়ি বা দুই চাকার যানবাহনের জন্য কোনো বিকল্প পথ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে কি না, কিংবা ট্রাফিক পুলিশের তরফে কোনো বিশেষ ট্রাফিক ডাইভারশন পরিকল্পনা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। যাত্রীদের সুবিধার্থে স্থানীয় ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। উল্লেখ্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে নির্মিত বা রক্ষণাবেক্ষণ করা অনেক পুরনো সেতুই বর্তমানে সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিকাঠামোর মানোন্নয়নে এই ধরনের সংস্কার কাজ অপরিহার্য। তবে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই মেরামত প্রক্রিয়া নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পূর্ত দপ্তরের অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় বেইলি ব্রিজের কাঠামোতে কিছু সূক্ষ্ম ত্রুটি নজরে এসেছিল। সেতুর স্থায়িত্ব বজায় রাখতে এবং বড় ধরনের কোনো বিপদ এড়াতে মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই যাতে মেরামতের কাজ শেষ করা যায়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ১২ ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হওয়ার পর দ্রুত যাতে পুনরায় যান চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই কর্মযজ্ঞ সাজানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে, ওই ১২ ঘণ্টা সময়কালে অহেতুক ওই এলাকায় ভিড় না করতে। তবে জরুরি পরিষেবার আওতাভুক্ত গাড়ি, যেমন—অ্যাম্বুলেন্স বা দমকল বাহিনীর জন্য কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো প্রশাসনিক কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা আসেনি। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিলিগুড়ি মহকুমা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেরামতির কাজ শেষ হওয়ার পর সেতুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হবে। নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরই কেবলমাত্র যান চলাচলের সবুজ সংকেত দেওয়া হবে। সাধারণ যাত্রীদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য প্রশাসনের তরফে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে এবং রাজ্যের বৃহত্তর স্বার্থে সাধারণ মানুষের পূর্ণ সহযোগিতা প্রার্থনা করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি তথ্যের জন্য স্থানীয় প্রশাসন বা ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের হেল্পলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ করা হয়েছে, কারণ এই সাময়িক কষ্ট ভবিষ্যতে একটি সুরক্ষিত এবং সুদৃঢ় যোগাযোগ ব্যবস্থা উপহার দেবে।








